জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে WIN CEREX সিরাপসহ দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এসআরবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬ বোতল লুজ WIN CEREX সিরাপ ও ১ হাজার ৬০০ মিলিলিটার সিরাপ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামভদ্রপুর ও কুটাহাড়া এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যৌথভাবে অভিযান
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ রামভদ্রপুর ও কুটাহাড়া এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর তিনটি টহলদল, এসআরবি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জয়পুরহাটের একটি টহলদল যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে দক্ষিণ রামভদ্রপুর ও কুটাহাড়া এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক দুজনের পরিচয়
আটক ব্যক্তিরা হলেন—পাঁচবিবি উপজেলার দক্ষিণ রামভদ্রপুর গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. আব্দুর রহিম (৩৫) এবং কুটাহাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাব্বি হাসান (৩২)।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে WIN CEREX সিরাপের ৬ বোতল লুজ এবং মোট ১ হাজার ৬০০ মিলিলিটার সিরাপ জব্দ করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া
বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তি ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে জব্দকৃত সিরাপের বিষয়ে আইনগত শ্রেণি, এর প্রকৃতি এবং পরবর্তী তদন্তে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার
সীমান্তবর্তী জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক পরিবহন, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য, চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা একসঙ্গে কার্যকর হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা
আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তরের পর জব্দকৃত সামগ্রীর বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

