ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

সাপাহারে কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, ২০ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

বাবুল আকতার রানা,স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁঃ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

সাপাহারে কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, ২০ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার শিমলডাঙ্গা রামাশ্রম পুলেরপাড় গ্রামে এক কৃষকের পাঁচ কাঠা জমির বিভিন্ন জাতের সবজি ক্ষেত কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) মধ্যরাতে কে বা কারা ক্ষেতের সবজি গাছ কেটে ব্যাপক ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক দুরুল হুদা ওই গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের পাঁচ কাঠা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। এবারও ওই জমিতে পুইশাক, ধুমা, করলা, শিম, কুশর, পাট ও কচুসহ বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ করেছিলেন।

মধ্যরাতে ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

কৃষক দুরুল হুদার ভাষ্য, শুক্রবার মধ্যরাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তাঁর সবজি ক্ষেতে প্রবেশ করে। পরে ধারালো কোনো অস্ত্র বা কৃষিকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম দিয়ে বিভিন্ন সবজি গাছ কেটে ফেলে। এতে একসঙ্গে কয়েক ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে ঘটনাটি ঘটানোয় তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। শনিবার সকালে নিয়মিতভাবে ক্ষেত দেখতে গিয়ে তিনি সবজি গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এতে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন।

পরে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানালে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতটি দেখেন। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সবজি গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ছাগল চরণ নিয়ে বিরোধের কথা জানালেন কৃষক

ভুক্তভোগী কৃষক দুরুল হুদা জানান, তাঁর জমিতে ছাগল চরণ নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি ফসল নষ্ট করার হুমকিও দিয়ে আসছিলেন।

তবে ওই হুমকির সঙ্গে শুক্রবার রাতের ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। কারা ক্ষেতের গাছ কেটে দিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই।

দুরুল হুদা বলেন, পূর্বশত্রুতা, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, পাঁচ কাঠা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতে তাঁকে বীজ, সার, শ্রমিক ও পরিচর্যার পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ফসলগুলো ধীরে ধীরে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠছিল। এ অবস্থায় গাছ কেটে দেওয়ায় তাঁর উৎপাদন ও সম্ভাব্য আয়—দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করে তিনি আনুমানিক ২০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তবে ফসল পুরোপুরি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিক্রি থেকে যে আয় হওয়ার কথা ছিল, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে বেশি হতে পারে বলেও তিনি জানান।

কৃষকের নিরাপত্তা ও তদন্তের দাবি

দুরুল হুদা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতের আঁধারে কৃষকের ফসল নষ্ট করার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, একটি ফসলি জমিতে কয়েক মাসের শ্রম, অর্থ ও সময় বিনিয়োগের পর ফসল নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকের ওপর সরাসরি আর্থিক চাপ পড়ে। তাই এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা স্পষ্ট হতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!