ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

সাপাহারে জরাজীর্ণ মসজিদে চলছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে মুসল্লিরা

বাবুল আকতার রানা,স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁঃ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

সাপাহারে জরাজীর্ণ মসজিদে চলছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে মুসল্লিরা

ছবিঃ সংগৃহীত

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার শিমুলডাঙ্গা রামাশ্রম পুলেরপাড় এলাকায় দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি মাটির মসজিদ এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও নাজুক অবকাঠামোর মধ্যেই গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মসজিদের টিনের ছাউনিতে মরিচা ধরে বিভিন্ন স্থানে ফুটো হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে মসজিদের ভেতর ভিজে যায়। এতে নামাজ আদায় করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় মুসল্লিদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কোনো রকমে পুরোনো টিনের ছাউনি ও মাটির দেয়ালের ওপর ভর করে মসজিদটি ব্যবহার করে আসছেন তাঁরা।

পুরোনো মাটির মসজিদ, নাজুক অবস্থা

শিমুলডাঙ্গা রামাশ্রম পুলেরপাড় এলাকার এই মসজিদটি দীর্ঘদিন আগে মাটির তৈরি করা হয়। সময়ের সঙ্গে মসজিদের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে মসজিদের টিনের ছাউনির অধিকাংশ অংশে মরিচা ধরেছে। কোথাও কোথাও টিন ফুটো হয়ে গেছে। ফলে রোদ-বৃষ্টি থেকে মুসল্লিদের সুরক্ষা দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই ছাউনিটি।

বিশেষ করে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছিদ্র দিয়ে মসজিদের ভেতরে পানি পড়ে। এতে নামাজের স্থান ভিজে যায় এবং মুসল্লিদের অনেক সময় শুকনো জায়গা খুঁজে নিয়ে নামাজ আদায় করতে হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলায় মসজিদটির অবকাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে মসজিদটি ব্যবহার করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

প্রায় ৩০ পরিবারের ভরসা এই মসজিদ

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার নিয়মিত এ মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। এলাকার মুসল্লিদের জন্য কাছাকাছি অবস্থানের কারণে মসজিদটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকলেও স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের উদ্যোগে মসজিদটির দেখভাল করে আসছেন। তবে বর্তমানে ছাউনির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় শুধু স্থানীয় উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মুসল্লিদের অভিযোগ, বৃষ্টির সময় মসজিদের ভেতরে পানি পড়ার কারণে নামাজ আদায়ের পরিবেশ নষ্ট হয়। বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লিদের জন্য ভেজা ও নাজুক পরিবেশে নামাজ আদায় করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

নেই মাইকের ব্যবস্থাও

মসজিদটিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হলেও এখন পর্যন্ত আজান দেওয়ার জন্য কোনো মাইকের ব্যবস্থা নেই। ফলে স্থানীয় মুসল্লিদের নিজেদের উদ্যোগেই আজান দিতে হয়।

স্থানীয়দের মতে, মসজিদের অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি একটি মাইক স্থাপন করা হলেও আজান ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা কিছুটা সহজ হবে। তবে তাঁদের কাছে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে মসজিদের ছাউনি সংস্কার এবং ভবনটি মেরামত করা।

আর্থিক সংকটে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না

স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হোসেন ও শরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। নিজেদের পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেই তাঁদের অনেক কষ্ট করতে হয়। এ অবস্থায় গ্রামের মানুষ চাইলেও সম্মিলিতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে মসজিদটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করতে পারছেন না।

তাঁরা বলেন, মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে কাজ করা সম্ভব হয়নি। এখন টিনের ছাউনির অবস্থা এতটাই খারাপ যে বৃষ্টির সময় মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁরা মসজিদটির ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু নতুন টিনের ছাউনি দেওয়া, দেয়াল মেরামত, মেঝে সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে যে অর্থ প্রয়োজন, তা তাঁদের পক্ষে এককভাবে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

সংস্কার না নতুন ভবন—চাই স্থায়ী সমাধান

স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, মসজিদটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে শুধু সাময়িকভাবে টিন পরিবর্তন না করে সম্ভব হলে একটি টেকসই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে দীর্ঘদিনের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে এবং এলাকার মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

তবে নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব না হলে অন্তত জরুরি ভিত্তিতে টিনের ছাউনি পরিবর্তন, দেয়াল মেরামত, মেঝে সংস্কার ও মাইক স্থাপনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সহায়তার আহ্বান স্থানীয়দের

মসজিদটির জরাজীর্ণ অবস্থা বিবেচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকার মুসল্লিরা।

তাঁদের আশা, সরকারি বা ব্যক্তিগত সহায়তা পাওয়া গেলে দ্রুত মসজিদটির সংস্কার করা সম্ভব হবে। এতে শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা সংস্কার হবে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে নামাজ আদায় করে আসা প্রায় ৩০টি পরিবারের মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিপূর্ণ ইবাদতের পরিবেশ তৈরি হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ধর্মীয় এই উপাসনালয়টি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!