আশি ও নব্বইয়ের দশকে খুলনার অপরাধজগতে বহুল আলোচিত নাম ছিল এরশাদ শিকদার ওরফে ‘রাঙা চোরা’। চুরি-ডাকাতি, দখল, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের একাধিক অভিযোগে আলোচিত এই ব্যক্তিকে ঘিরে খুলনায় তৈরি হয়েছিল ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ। তার বিলাসবহুল বাড়ি ‘স্বর্ণকমল’, একাধিক বিয়ের গল্প, সহযোগীদের জবানবন্দি এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ—সব মিলিয়ে এরশাদ শিকদারের জীবন হয়ে ওঠে বাংলাদেশের অপরাধ ইতিহাসের আলোচিত অধ্যায়।
১৯৯৯ সালে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের মামলা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাতটি হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হলে ২০০৪ সালের ১০ মে দিনগত মধ্যরাতে খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরদিন ভোরে কারাগার থেকে মরদেহ বের করে দাফন করা হয়।
তবে মৃত্যুর দুই দশকের বেশি সময় পরও এরশাদ শিকদারকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল কমেনি। বিশেষ করে তার ‘স্বর্ণকমল’ বাড়ি, একাধিক বিয়ে, সহযোগীদের সাক্ষ্য এবং অপরাধজগতের নানা কাহিনি এখনো খুলনায় আলোচনার বিষয়।
‘সাত-আট বউ’র গুঞ্জন, নথিতে যাদের তথ্য
এরশাদ শিকদার গ্রেপ্তারের পর তার একাধিক বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও তার সাত-আটটি বিয়ের কথাও বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন তথ্য ও পারিবারিক সূত্রে ছয়টি বিয়ের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও সবগুলোর পক্ষে সমান মাত্রার দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরশাদ শিকদারের প্রথম স্ত্রী ছিলেন খোদেজা বেগম। ১৯৭৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। খোদেজার ঘরে চার সন্তান—তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা হলেন কামাল শিকদার, মনিরুজ্জামান শিকদার জামাল ও হেলাল শিকদার এবং মেয়ে সুবর্ণা ইয়াসমিন স্বাদ।
আরেক স্ত্রী সানজীদা নাহার শোভাকে এরশাদ শিকদার তার আলোচিত বাড়ি ‘স্বর্ণকমলে’ নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা যায়। খোদেজা ও শোভার বিয়ের ক্ষেত্রে দুই পরিবারের স্বীকৃতি এবং বিয়ের বৈধতার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচিত অন্য নারীদের মধ্যে রূপসার রাজাপুর গ্রামের তসলিমা আক্তার, বাগেরহাটের রামপালের ফরিদা বেগম, সহযোগী বারেক কমান্ডারের স্ত্রী রামেছা আক্তার এবং পাইকগাছার যাত্রাপালার নায়িকা দুর্গারানীর নামও বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে।
তবে এসব নারীর প্রত্যেককে এরশাদ শিকদার বিয়ে করেছিলেন—এমন দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যেই উল্লেখ রয়েছে। ফলে তাদের সবাইকে বৈধ স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
মেয়ের মৃত্যুও আলোচনায়
এরশাদ শিকদার গ্রেপ্তারের পর শোভার গর্ভে জন্ম নেয় জান্নাতুল নওরীন এমিলি এশা নামে এক মেয়ে। ২০২২ সালের ৪ মার্চ রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
এরশাদ শিকদারের পরিবারের ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় এই মৃত্যুর ঘটনাটিও পরবর্তীতে উঠে আসে। তবে ওই মৃত্যুর কারণ বা এর সঙ্গে অতীতের কোনো ঘটনার যোগসূত্র আছে কি না, তা পৃথকভাবে তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়।
রাজসাক্ষী নূরে আলমের জবানবন্দিতে ভয়াবহ বর্ণনা
এরশাদ শিকদারের অপরাধজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র ছিলেন তার সাবেক দেহরক্ষী নূরে আলম। তিনি পরে রাজসাক্ষী হয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেন।

তার জবানবন্দিতে এরশাদ শিকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বর্ণনা উঠে আসে। নূরে আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি এরশাদের সঙ্গে থাকার সময় ২৪টি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ও সহযোগী ছিলেন বলে দাবি করেন।
একটি ঘটনার বর্ণনায় নূরে আলম বলেন, গাড়িতে ফেরার সময় এক তরুণীকে দেখে এরশাদ তাকে নিজের আস্তানায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। পরে নূরে আলমকে ওই তরুণীকে বিয়ে করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নূরে আলম বিয়েতে রাজি হয়ে পোশাক আনতে গেলে ওই তরুণীর ওপর এরশাদ নির্যাতন চালান বলে তার জবানবন্দিতে অভিযোগ করা হয়।
পরে নূরে আলমের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হলেও তার অনুপস্থিতিতে এরশাদ ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব বক্তব্য আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যের অংশ হলেও প্রতিটি ঘটনার পৃথক প্রমাণ ও বিচারিক মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট মামলার নথির বিষয়।
নির্যাতনের অভিযোগে আরেক নারীর করুণ কাহিনি
এরশাদ শিকদারের মৃত্যুর পর তার অপরাধজগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নারীর ওপর নির্যাতনের বর্ণনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী স্বামীর সঙ্গে ঘাট এলাকায় থাকতেন। তার স্বামী একপর্যায়ে এরশাদের অপরাধজগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরে ওই নারীর স্বামীর বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয় এবং টাকা ফেরত না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই নারীকে নিজের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তিনি নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে। তার দুটি মেয়ে জন্ম নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বর্ণনার স্বতন্ত্র নথি বা বিচারিক প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঝালকাঠি থেকে খুলনায় ‘রাঙা চোরা’
এরশাদ শিকদারের জন্ম ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মাদারঘোনা গ্রামে। তার বাবা ছিলেন বন্দে আলী শিকদার। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
১৯৬৭ সালের দিকে তিনি নলছিটি ছেড়ে খুলনায় চলে আসেন বলে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়। খুলনায় এসে প্রথম দিকে রেলস্টেশনে কুলির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। পরে রেললাইনের পাত চুরির সঙ্গে জড়িত একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হন।
একপর্যায়ে নিজেই একটি দল গঠন করেন এবং চুরির ঘটনায় ‘রাঙা চোরা’ নামে পরিচিতি পান। পরে খুলনা রেলস্টেশন ও ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় তার প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।
‘রামদা বাহিনী’ গঠনের অভিযোগ
বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে এরশাদ শিকদার ‘রামদা বাহিনী’ নামে একটি দল গঠন করেন। দলটির বিরুদ্ধে খুলনা রেলস্টেশন ও ঘাট এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
১৯৮২ সালের দিকে ওই বাহিনীকে ব্যবহার করে ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এরশাদ শিকদারের প্রভাব আরও বাড়ে বলে বিভিন্ন নথি ও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে।

রাজনীতিতে প্রবেশ
অপরাধজগতের পাশাপাশি এরশাদ শিকদার রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। ১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় বলে বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
১৯৮৮ সালের নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগে যোগ দেন বলে জানা যায়। তবে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
১৯৯৯ সালে গ্রেপ্তারের সময়ও তিনি ওই ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন।
দখল, চাঁদাবাজি ও অপরাধের অভিযোগ
১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত খুলনার রেলওয়ের সম্পত্তি দখল, ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে।
১৯৯১ সালে ৪ নম্বর ঘাট এলাকার একটি বরফকলের মালিক রফিককে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দিয়ে সেটি দখলের অভিযোগও রয়েছে। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের ওই বরফকল থেকে বরফ কিনতে বাধ্য করা হতো বলে বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে।
বরফকলটিকে নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে সেখানে মানুষ হত্যা করে লাশ মাগুর মাছকে খাওয়ানো এবং হাড়গোড় নদীতে ফেলে দেওয়ার যে ভয়াবহ গল্প দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল, তার পক্ষে তদন্ত বা আদালতের নথিতে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
৬৬ হত্যার অভিযোগ, আদালতে ২৪ হত্যার বর্ণনা
১৯৯৯ সালে গ্রেপ্তারের পর এরশাদ শিকদারের বিরুদ্ধে ৬৬টিরও বেশি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের একটি বড় অংশ তার সাবেক সহযোগী ও রাজসাক্ষী নূরে আলমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচিত হয়।
নূরে আলম আদালতে ২৪টি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন বলে জানা যায়। তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এরশাদের কাছে বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্যও সামনে আসে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এরশাদ শিকদারের ‘স্বর্ণকমল’ বাড়িতে একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও সামনে আসে।
৪৩ মামলায় সাত মৃত্যুদণ্ড
গ্রেপ্তারের পর এরশাদ শিকদারের বিরুদ্ধে মোট ৪৩টি মামলা হয় বলে বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাতটি হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। আবেদন নাকচ হওয়ার পর ২০০৪ সালের ১০ মে দিনগত মধ্যরাতে খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
১১ মে ভোরে কারাগার থেকে তার মরদেহ বের করা হয় এবং সেদিনই তাকে দাফন করা হয়।
রহস্যে ঘেরা ‘স্বর্ণকমল’
খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকার মজিদ সরণিতে প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছিল এরশাদ শিকদারের আলোচিত বাড়ি ‘স্বর্ণকমল’।
একসময় খুলনার অন্যতম বিলাসবহুল বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল এটি। বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, বাড়িটির নকশা ভারত থেকে করানো হয়েছিল। দেশ-বিদেশের দামি আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো বাড়িটিতে ছিল লুকিয়ে থাকার জন্য একটি বাঙ্কারও।
এরশাদ শিকদারের মৃত্যুর পর বাড়িটি খুলনার মানুষের কৌতূহলের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। বহু মানুষ বাড়িটি দেখতে সেখানে যেতেন। বাড়িটিকে ঘিরে নানা গল্প ও রহস্যের কথা প্রচলিত হলেও সেগুলোর সবকটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভেঙে ফেলা হয়েছে বাড়ির একাংশ
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘স্বর্ণকমল’-এর চেহারাও বদলে গেছে। ২০২৩ সালে বাড়িটির একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয় এবং ওই অংশ বিক্রি করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
বর্তমানে ওই অংশ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অন্য অংশে পুরোনো তিনতলা ও দোতলা ভবনের কাঠামো রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কেউ বসবাস করেন না।
এরশাদ শিকদারের বড় ছেলে কামাল শিকদার একসময় ওই বাড়িতে থাকতেন। বর্তমানে তিনি সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকেন বলে জানা যায়। বাড়িটি ও পরিবারের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্বর্ণকমলের সামনে দোকান দেওয়া স্থানীয় এক নারী বলেন, বাড়িটি কয়েক বছর ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। তবে বাড়িটিকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল এখনো রয়েছে।
অপরাধের ইতিহাসে এরশাদ শিকদারের অধ্যায়
এরশাদ শিকদারের উত্থান ছিল খুলনার একটি ঘাট এলাকার অপরাধজগত থেকে। পরবর্তীতে দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সহিংসতার অভিযোগ তাকে খুলনার অন্যতম আলোচিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত করে।
তার বিরুদ্ধে ওঠা বহু অভিযোগ, রাজসাক্ষীর জবানবন্দি, হত্যা মামলার বিচার এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর—সব মিলিয়ে এরশাদ শিকদারের জীবন বাংলাদেশের অপরাধ ও বিচারব্যবস্থার ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।
তবে তাকে ঘিরে প্রচলিত সব কাহিনি যে একইভাবে প্রমাণিত, তা নয়। আদালতে প্রমাণিত অপরাধ, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত অভিযোগ এবং স্থানীয়ভাবে প্রচলিত গল্প—এই তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখলেই এরশাদ শিকদারকে ঘিরে তৈরি ইতিহাসের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়।

