বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৯ম ব্যাচের কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারের কর্মকর্তা মোঃ আজম-ই-সাদাত। দীর্ঘ কর্মজীবনে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রশাসনিক দায়িত্বের ধারাবাহিকতায় প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন পদোন্নতি-বঞ্চিত থাকার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ভূতাপেক্ষ (Retroactive) পদোন্নতি দেওয়ার তথ্যও রয়েছে।
তার সরকারি চাকরির পরিচিতি নম্বর ৭৪৭১। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজস্ব প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ, স্থানীয় সরকার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করেছেন এই কর্মকর্তা।
কাস্টমস ক্যাডারে কর্মজীবনের শুরু
মোঃ আজম-ই-সাদাত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ৯ম ব্যাচের কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারের কর্মকর্তা। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার সরকারি কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় গড়ে ওঠে।
২০০২ সালে তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, নারায়ণগঞ্জের অফিস প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে থাকার সময় কাস্টমস ও ভ্যাট-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।
পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে রাজস্ব প্রশাসনের বাইরে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
প্রেষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব
কাস্টমস ও এক্সাইজ ক্যাডারের কর্মকর্তা হলেও মোঃ আজম-ই-সাদাত দীর্ঘ সময় প্রেষণে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেছেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় উল্লেখযোগ্য।
এসব দায়িত্বে তিনি উপসচিব ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। ফলে তার কর্মজীবন কেবল রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্পেও দায়িত্ব
মোঃ আজম-ই-সাদাতের কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দায়িত্বগুলোর একটি ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, রাজশাহী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (PD) হিসেবে দায়িত্ব পালন।
প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন প্রকল্পটির প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালেও তিনি ওই প্রকল্পের সঙ্গে দায়িত্বশীল অবস্থানে ছিলেন বলে দেওয়া তথ্যের উল্লেখ রয়েছে।
একজন কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়েও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন তার বহুমুখী প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার একটি দিক তুলে ধরে।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি-বঞ্চিত থাকার পর ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি
মোঃ আজম-ই-সাদাতের চাকরিজীবনের আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা। ২০১৫ সালের বেতন স্কেল-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি (Retroactive Promotion) দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির অর্থ হলো—কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময় থেকে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও তা কার্যকর না হওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সেই নির্ধারিত সময়ের প্রাপ্যতা বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি কার্যকর করা।
এই পদোন্নতির ফলে তার সরকারি চাকরির পদমর্যাদা ও প্রাধিকার-সংক্রান্ত সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।
বর্তমানে কোথায় মোঃ আজম-ই-সাদাত?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোঃ আজম-ই-সাদাত বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত রয়েছেন। তার ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং অর্জিত পদমর্যাদার ভিত্তিতে সরকারি প্রাধিকার ও সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথিতে প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে তার বর্তমান নির্দিষ্ট কর্মস্থল, পদায়নের আদেশ বা কোন দপ্তরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন—এ বিষয়ে সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দিষ্ট তথ্য এখানে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে তাকে বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ সরকারি আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।
দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত চিত্র
মোঃ আজম-ই-সাদাতের কর্মজীবন পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে আসে। তিনি বিসিএসের ৯ম ব্যাচের কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে রাজস্ব প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ সালে নারায়ণগঞ্জ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
পরবর্তীতে প্রেষণে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে কাজ করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
বিশেষ করে রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্পের দায়িত্ব তার কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার পর ২০২৫ সালে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়াও তার চাকরিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ঘটনা। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত থাকা এই কর্মকর্তার পরবর্তী পদায়ন ও দায়িত্বের বিষয়ে সর্বশেষ সরকারি আদেশই চূড়ান্ত তথ্যের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
মোঃ আজম-ই-সাদাত সম্পর্কে এক নজরে
নাম: মোঃ আজম-ই-সাদাত
ক্যাডার: বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ)
ব্যাচ: ৯ম বিসিএস
পরিচিতি নম্বর: ৭৪৭১
২০০২ সালের দায়িত্ব: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, নারায়ণগঞ্জের অফিস প্রধান
প্রেষণে দায়িত্ব: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর
উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব: উপসচিব, প্রকল্প পরিচালক
প্রকল্প: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, রাজশাহী
পদোন্নতি: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি
বর্তমান অবস্থান: প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত

