ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ধাপে ধাপে ভোট: নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ধাপে ধাপে ভোট: নির্বাচন কমিশন

ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে একযোগে ভোট না নিয়ে ব্যয় সংকোচন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কমিশন।

একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের যে প্রস্তুতি ও পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

তবে একই সময়ে দেশের সব ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে না কমিশন। দেশের বিপুলসংখ্যক ইউনিয়নে একযোগে নির্বাচন করতে গেলে প্রশাসনিক ও আর্থিক—দুই ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসি বলছে, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন পরিচালনার খরচ কমানো এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বিবেচনায় ভোটের সময় নির্ধারণ

ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই ভোটগ্রহণের সময় প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।

এ কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় যাতে নির্বাচন আয়োজনের কারণে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পরীক্ষার আগে অথবা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এর ফলে একদিকে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও যতটা সম্ভব নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ইসি।

ভোটার স্থানান্তর নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা

ভোটার স্থানান্তর নিয়েও বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ভোটার স্থানান্তর একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

কারও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে তিনি স্থানান্তরের সুযোগ পান। এটিকে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা অপব্যবহার ঠেকাতে কমিশন নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতিতে ইসির আপত্তি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন।

রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে ইসির কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ ইতিবাচক নয়।

নির্বাচন কমিশনের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকেন। তাঁদের সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ এবং শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসি মনে করছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ এবং শিক্ষকদের পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘সরকারের চাপে ইসি’—দাবির জবাব

নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপের মধ্যে রয়েছে—জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপে রয়েছে—এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবি করাই মূলত কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার একটি কৌশল।

কমিশনের কার্যক্রম নিজস্ব সাংবিধানিক ও আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

উপনির্বাচনে প্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিং

আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোটদানের সুযোগ আরও সহজ ও আধুনিক করতে প্রযুক্তিনির্ভর আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের লক্ষ্য হলো পোস্টাল ব্যালট ভোটিং ব্যবস্থাকে সাধারণ ভোটারদের জন্য আরও সহজ, কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ইসি।

প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড়ছে নিরাপত্তা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে।

কোনো এলাকায় বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসির লক্ষ্য হলো দল-মত নির্বিশেষে ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা।

কবে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে?

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে সব ইউনিয়নে একই দিনে ভোট না নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

কেন ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন?

ব্যয় সংকোচন, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নির্বাচন পরিচালনার সামগ্রিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইউপি নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে হবে?

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উপনির্বাচনে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতিও চলছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!