ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

শেরপুরে কোল্ড স্টোরেজে নষ্ট ৫৭ হাজার বস্তা আলু, দিশেহারা কৃষক-ব্যবসায়ীরা; বীজ সংকটে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

শেরপুরে কোল্ড স্টোরেজে নষ্ট ৫৭ হাজার বস্তা আলু, দিশেহারা কৃষক-ব্যবসায়ীরা; বীজ সংকটে শঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুরের নৌহাটা এলাকায় বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত বেসরকারি তাজ কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা (তিন হাজার ১০০ টনের বেশি) আলু পচে ও পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। হিমাগারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজ থেকেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২০ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হিমাগারে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

হঠাৎই বিপর্যয়, সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় কৃষকরা

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কৃষক ও আলু ব্যবসায়ী তাদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণের জন্য তাজ কোল্ড স্টোরেজে মজুত করেছিলেন। দীর্ঘদিন নিরাপদে সংরক্ষণের আশায় রাখা সেই আলু এখন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

হিমাগারের ভেতরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি এবং অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজের কারণে আলুগুলো পচে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক আলু কালচে হয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

কৃষকদের অভিযোগ, বিষয়টি শুরুতেই প্রকাশ না করে কয়েকদিন গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এবং বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে তারা হিমাগারে গিয়ে আলু নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষতিগ্রস্তরা

রোববার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী তাজ কোল্ড স্টোরেজে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে উৎপাদিত আলু সংরক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। এখন সেই আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। ক্ষতিপূরণ না পেলে তাদের পথে বসতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

বীজ আলুর সংকটে ব্যাহত হতে পারে আগামী মৌসুমের চাষ

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হওয়ায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, আগামী শীত মৌসুমে জেলায় বীজ আলুর সংকট দেখা দিতে পারে। এতে আলু চাষ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাজারেও সরবরাহ কমে গিয়ে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এর প্রভাব আগামী মৌসুমে কৃষি উৎপাদনের ওপরও পড়তে পারে।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

তাজ কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন,
"যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজ হওয়ায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আগামী বৃহস্পতিবার কৃষক ও মজুতদারদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগের অবস্থান

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

মতামত থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!