দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদের কোনো বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন। একই সঙ্গে বিরোধী দল থেকেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চিফ হুইপ।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন অনুযায়ী গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন।
বিশেষ অধিবেশন হচ্ছে না
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদের বিশেষ বা সংক্ষিপ্ত অধিবেশন আহ্বানের কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। এর আগে গত ৬ আগস্ট তিনি ভোট গ্রহণের জন্য সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক সভা ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনই সম্পন্ন করবে।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলাদা করে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি বিএনপির
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দলের প্রার্থী নির্বাচন ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
অন্যদিকে বিরোধী দল থেকেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে চিফ হুইপের বক্তব্য
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলের মনোনীত সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে অথবা দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হবে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ৭০ অনুচ্ছেদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বিরোধী দলের আপত্তি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের প্রচলিত কাঠামো অনুসরণের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একটি প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রয়োজন ছিল। জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনটি সম্পন্ন করা গেলে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতো এবং রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা ও ক্ষমতা বাড়ত বলে মনে করেন তিনি।
তার বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০ আগস্ট ভোট, তফসিল চূড়ান্ত
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।
এরপর ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থীরা ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।
সবশেষে ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল
মনোনয়নপত্র জমা: ১৩ আগস্ট, সকাল ১০টা–বিকেল ৪টা
মনোনয়নপত্র বাছাই: ১৬ আগস্ট, সকাল ১০টা থেকে
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ১৮ আগস্ট, বিকেল ৪টা পর্যন্ত
ভোট গ্রহণ: ২০ আগস্ট, দুপুর ২টা–বিকেল ৫টা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে এখন মূল নজর বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন, বিরোধী দলের প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং সংসদে ভোটের সমীকরণের দিকে। বিশেষ অধিবেশন ছাড়াই নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

