ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

জাতীয় স্বার্থে আপস নয়, ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

জাতীয় স্বার্থে আপস নয়, ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশ কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে চাই। তারা আমাদের প্রতিবেশী। তাই ভারতের সঙ্গে আমাদের কার্যকর সম্পর্ক থাকবে। তবে শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে কিছু করতে পারি না।’

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারত সফর

ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনার ভিত্তিতে দেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে সঠিক সময়ে ভারত সফর করা হবে।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলে সফরের জন্য নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ‘আমরা যদি আগামীকালও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে যেতে পারি, অথবা পরের সপ্তাহেও যেতে পারি। এটা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় ইতোমধ্যে রায় হয়েছে এবং আরও কিছু মামলা বিচারাধীন।

তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগের মধ্যে তিনি ভারতে গেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা ভারতের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ও চলমান একটি বিষয়।

ভারতে পালিয়ে থাকা অন্য অপরাধীদের ফেরানোর উদ্যোগ

শুধু শেখ হাসিনাই নন, আরও অনেক অভিযুক্ত বা অপরাধী ভারতে অবস্থান করছেন বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, এসব ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হবে।

তার বক্তব্য, বাংলাদেশ তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনি বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে এগিয়ে নিতে চায়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘জাতীয় স্বার্থ’ই অগ্রাধিকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকার একদিকে প্রতিবেশীসুলভ ও কার্যকর যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চায়, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চায়।

বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং প্রত্যর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কই এমন পর্যায়ে নেওয়া হবে না, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!