ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

গাবতলীতে কবিরাজি চিকিৎসার নামে স্বর্ণালংকার-টাকা আত্মসাৎ, রংপুর থেকে ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার

গাবতলী প্রতিনিধি, আমিনুল আকন্দ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

গাবতলীতে কবিরাজি চিকিৎসার নামে স্বর্ণালংকার-টাকা আত্মসাৎ, রংপুর থেকে ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার

ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলীতে পবিত্র কোরআন শরিফ দানের কথা বলে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় তৈরি করে পরে কবিরাজি চিকিৎসার নামে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাবতলী মডেল থানার ওসি রাকিব হোসেনের দিক-নির্দেশনায় রংপুরের বদরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শামসুল সরকার ওরফে মন্ত্রী (৩৩), পিতা মো. আবু সায়েদ; মো. নুরনবী ইসলাম ওরফে নয়ন (২৭), পিতা মো. এনামুল হক এবং মো. শামসুল আলম (২৬), পিতা মো. আমিনুল ইসলাম। তাদের বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার কাজীপাড়া এলাকায়।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি মাদ্রাসার জন্য পবিত্র কোরআন শরিফ দানের কথা বলে গাবতলী থানার নাড়ুয়ামালা এলাকায় ওই নারীর বাড়িতে যায়। কথাবার্তার একপর্যায়ে কোরআন শরিফ কেনার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেয় তারা।

এর কিছুদিন পর ওই দুই ব্যক্তি আরও দুই মাদ্রাসাছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারীর বাড়িতে যায়। তখন মাদ্রাসাছাত্রদের কাপড়চোপড় কেনার কথা বলে তার কাছ থেকে আরও ২ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় ও দানের কথা বলে তারা ওই নারীর সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কবিরাজি চিকিৎসার নামে অভিনব প্রতারণার অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৮ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি গাবতলীর হাপানিয়া গ্রামে ওই নারীর বসতবাড়িতে যায়। সেখানে তারা ওই নারীকে অসুস্থ দাবি করে কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে।

একপর্যায়ে তেলপড়া দিয়ে শরীরে মালিশ করতে বলা হয়। পরে ঘরের ভেতরে গোলাপজল ছিটিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তার মাধ্যমে ওই নারীকে প্রভাবিত করা হয়। এরপর তার কাছে থাকা স্বর্ণের গহনা বের করে দেওয়ার জন্য বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ওই নারী অচেতন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে প্রতারকরা তার স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাত দিনের ভয় দেখিয়ে নেওয়া হয় আরও ১০ হাজার টাকা

প্রতারণার কৌশল হিসেবে ওই নারীকে বলা হয়, সাত দিনের আগে স্বর্ণের গহনা দেখা যাবে না। এর আগে গহনা দেখতে গেলে কথিত কবিরাজি চিকিৎসা কাজে আসবে না এবং এতে সংসারে ক্ষতি হতে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে চিকিৎসার খরচের কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

তদন্তে রংপুরের বদরগঞ্জে পুলিশের অভিযান

অভিযোগ পাওয়ার পর গাবতলী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাবতলী মডেল থানার ওসি রাকিব হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি পেশাদার প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসায় দানের কথা বলে মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বিশ্বাস অর্জন করে। পরে বিভিন্ন কৌশলে মানুষের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশের

এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে অপরিচিত ব্যক্তি ধর্মীয় দান, কবিরাজি চিকিৎসা, তাবিজ-কবচ কিংবা অলৌকিক চিকিৎসার কথা বলে বাড়িতে এলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। পরিচিত নয়—এমন কারও কাছে স্বর্ণালংকার বা নগদ টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!