নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বেপরোয়া গতিতে চলার সময় ‘বাঁধন’ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে গেছে। এতে বাসে থাকা প্রায় ১২ যাত্রী আহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সোনাপুর–সুবর্ণচর সড়কের হারিছ চৌধুরী বাজারের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বাস
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বাঁধন পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রাম থেকে সুবর্ণচরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সোনাপুর–সুবর্ণচর সড়কে প্রবেশের পর বাসটির গতি ছিল বেশ বেশি। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বাসটির চালক ও হেলপারকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
হেলপার বাস চালাচ্ছিলেন—প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসার পর বাসটি সোনাপুর–সুবর্ণচর সড়কে প্রবেশ করলে চালকের গতি আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে হেলপার বাসটি চালাচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। তবে হেলপার বাস চালাচ্ছিলেন কি না, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
কয়েকটি গাড়িকে দ্রুতগতিতে ওভারটেক
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাঁধন পরিবহনের বাসটিকে বেপরোয়া গতিতে চলতে দেখেছেন। বাসটি তার অটোরিকশাসহ কয়েকটি গাড়িকে দ্রুতগতিতে ওভারটেক করে সামনে এগিয়ে যায়।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বাসটির গতি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। অল্পের জন্য তারাও দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বের হন যাত্রীরা
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই বাসের সব যাত্রী বাস থেকে বের হয়ে যান।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, অতিরিক্ত গতির কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, বাঁধন পরিবহনের বাস দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানার কর্তব্যরত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, বাসটির গতিসীমা এবং চালক বা হেলপারের ভূমিকা সম্পর্কে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

