ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার রোধে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের বড় সাফল্য

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার রোধে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের বড় সাফল্য

ছবিঃ সংগৃহীত

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত নিয়মে ব্যবহার না করে প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের কার্যালয়। বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা সুরক্ষিত গুদামে অভিযান ও নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


দৈনিক আজ ও আগামীকাল এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার না করা, রপ্তানি না করা, বৈধভাবে ধ্বংস না করা এবং বিদেশি পণ্যকে অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে ছাড়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের বিষয়ে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের কার্যালয়ে তথ্য-প্রমাণ জমা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্ড সুবিধার আওতায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে যথাসময়ে পণ্য তৈরি করে তা বিদেশে রপ্তানি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলা এবং রপ্তানি উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে সরকার এ সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার অপব্যবহার করে আসছে।
দৈনিক আজ ও আগামীকাল এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা চার প্রতিষ্ঠান হলো— 

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইনটিমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, আলামান্ট ফ্যাশন লিমিটেড, বিজিপি ইন্ডাস্ট্রিজ (বিডি) প্রাইভেট লিমিটেড এবং ট্রাউজার গার্মেন্টস বিডি লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, প্রতিষ্ঠানের মজুত ও হিসাবের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান ও তদারকির মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিলস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দৈনিক আজ ও আগামীকালকে বলেন, বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাজস্ব স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হলে বন্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সুরক্ষিত হবে এবং প্রকৃত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও এ ব্যবস্থার সুফল আরও কার্যকরভাবে পেতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!