চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের একটি বাড়িতে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটিতে বিপুলসংখ্যক ককটেল মজুত ছিল। বিস্ফোরণে বাড়িটির টিনের চালা উড়ে গেছে এবং দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের ইউনূস আলীর ছেলে ইয়াহিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাড়িতে মজুত ছিল ককটেল—দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ইয়াহিয়ার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক ককটেল মজুত রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর বাড়িটির টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেয়াল ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে ঘটনাস্থলে মোট কতটি ককটেল ছিল বা কতটি বিস্ফোরিত হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের দাবি করলেও পুলিশ, বিজিবি কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এ সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিস্ফোরিত বা মজুত ককটেলের প্রকৃত সংখ্যা এখনো অনিশ্চিত।
নাশকতার আশঙ্কা, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ঘটনার পর বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ককটেলগুলো কীভাবে ওই বাড়িতে এলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব ককটেল মজুত করা হয়ে থাকতে পারে। আবার অপর একটি সূত্রের দাবি, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে এসব ককটেল অন্যত্র সরবরাহের জন্য মজুত করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এসব দাবির কোনোটি এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত শেষ হলে ককটেল মজুতের উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে বিজিবি, স্বাভাবিক রয়েছে পরিস্থিতি
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে ওই এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের পর বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জহুরপুর ক্যাম্প থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নরোশিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, তদন্তের পর জানা যাবে বিস্তারিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে এলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তদন্ত শেষে তা জানা যাবে।
পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামত উদ্ধার করা হয়েছে কি না এবং বাড়িটিতে ঠিক কী পরিমাণ বিস্ফোরক ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
দুর্গম চরাঞ্চলে এ ধরনের বিস্ফোরক মজুতের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

