ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

বাংলা কিউআরে লেনদেন খরচ নেই, দুর্নীতির সুযোগও থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

বাংলা কিউআরে লেনদেন খরচ নেই, দুর্নীতির সুযোগও থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে চালু করা হয়েছে ‘বাংলা কিউআর’। এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা ফি না থাকায় এর ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী বাজারে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কেনাকাটার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

ক্যাশলেস অর্থনীতিতে বাংলা কিউআর

অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়লে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ধীরে ধীরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআরে লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা ফি না থাকায় সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।

৩৯ লাখ মার্চেন্ট যুক্ত বাংলা কিউআরে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট হিসাব এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে এসব মার্চেন্টের কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লেনদেন হচ্ছে। এসব লেনদেনের দৈনিক আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।

এক কিউআরেই বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস থেকে পেমেন্ট

বাংলা কিউআর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা একটি সার্বজনীন ও আন্তঃচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর ফলে একজন ব্যবসায়ীকে আলাদা আলাদা ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার জন্য একাধিক কিউআর কোড প্রদর্শনের প্রয়োজন হয় না।

একটি নির্দিষ্ট বাংলা কিউআর কোড দোকানে প্রদর্শন করা থাকলে ক্রেতা নিজের পছন্দের ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে সেটি স্ক্যান করতে পারেন।

যেমন, বিকাশ, নগদ, রকেট বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অ্যাপের ‘Scan QR’ অপশন ব্যবহার করে ক্রেতা কিউআর কোড স্ক্যান করতে পারেন। এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত মার্চেন্টের নাম যাচাই করে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়।

লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য গ্রাহককে নিজের গোপন PIN বা অনুমোদিত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। লেনদেন সফল হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই তাৎক্ষণিকভাবে নোটিফিকেশন বা বার্তা পাওয়ার কথা।

নগদ লেনদেন কমানোর সুযোগ

বাংলা কিউআরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দৈনন্দিন কেনাকাটায় নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো। বাজার, দোকান, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিউআরভিত্তিক পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে মানুষকে হাতে নগদ টাকা বহনের প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কমতে পারে।

বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থ গ্রহণের সুযোগ থাকায় ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার কথা।

অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

বাংলা কিউআর ব্যবহার করে অবৈধভাবে নগদ অর্থ উত্তোলনের কিছু অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবস্থাটি চালুর শুরুর দিকে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়ম বা দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।

তিনি বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে ক্যাশলেস অর্থনীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

দ্রুত বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলা কিউআর চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই এর সঙ্গে যুক্ত মার্চেন্ট ও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট যুক্ত হওয়া এবং প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন লাখ লেনদেন হওয়া এ ব্যবস্থার বিস্তারের চিত্র তুলে ধরে।

দৈনিক প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হওয়ায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বাংলা কিউআরের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে দেখা যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ডিজিটাল পেমেন্টে নতুন সম্ভাবনা

বাংলা কিউআর একদিকে যেমন ক্রেতার জন্য সহজে পেমেন্ট করার সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম থেকে অর্থ গ্রহণের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করছে।

ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়লে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার খরচ ও ঝুঁকি কমানো, লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ এবং আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে এর নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন সেবা, গ্রাহকের আস্থা, মার্চেন্টদের সক্রিয় ব্যবহার এবং অভিযোগ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারির ওপর।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!