বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপাদানে শুল্কছাড় দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিরল ও জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ বিশেষ কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য এ সুবিধার আওতায় এসেছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিরল রোগের চিকিৎসা, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা, কোষভিত্তিক থেরাপি এবং জিন থেরাপিতে ব্যবহৃত ওষুধ শূন্য শুল্কের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে এসব ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপাদানও শুল্কছাড়ের সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ মোট ২০টি দেশের নির্দিষ্ট পণ্যকে এ সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে।
বিশেষায়িত ওষুধে শূন্য শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তালিকায় বিরল ও জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু বিশেষায়িত ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানকে শূন্য শুল্কের আওতায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ
বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ
কোষভিত্তিক থেরাপির ওষুধ
জিন থেরাপির ওষুধ
এসব ওষুধ তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান
এ ধরনের পণ্যে শুল্কছাড় থাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানিকারকেরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারেন।
২০ দেশের পণ্য এ সুবিধার আওতায়
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ মোট ২০টি দেশের নির্দিষ্ট ওষুধ ও ওষুধের উপাদানকে এ শুল্কছাড়ের আওতায় রাখা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তিতে এ শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ সব ধরনের ওষুধে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। তালিকায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানই শুল্কছাড় পাবে।
কিছু পেটেন্ট ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তুতি
বিশেষায়িত কিছু ওষুধে শুল্কছাড় দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ আমদানি নীতিতে একই সময়ে একদিকে নির্দিষ্ট জীবনরক্ষাকারী ও বিশেষায়িত ওষুধে শুল্কছাড় থাকছে, অন্যদিকে কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে উচ্চহারে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেনেরিক ওষুধে থাকছে আলাদা সুবিধা
এদিকে জেনেরিক ওষুধ এবং এসব ওষুধের সংশ্লিষ্ট উপাদান সেকশন ২৩২-এর আওতায় আরোপিত ওষুধবিষয়ক শুল্কের বাইরে থাকবে বলে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে।
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের ওষুধ রপ্তানিতে জেনেরিক ওষুধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষায়িত ওষুধ ও উপাদানে শুল্কছাড় এবং জেনেরিক ওষুধকে সংশ্লিষ্ট শুল্কের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মতো ওষুধ উৎপাদনকারী দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে কোন কোন বাংলাদেশি ওষুধ বা উপাদান বাস্তবে শূন্য শুল্কের আওতায় পড়বে, তা নির্ধারণে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের পণ্যভিত্তিক তালিকা ও প্রযোজ্য শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি ও মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্য

