২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না—তা সরেজমিনে দেখতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত এসব ছাপাখানায় যান মন্ত্রী। রাতের আকস্মিক এ পরিদর্শনের মাধ্যমে চলমান পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রমের বাস্তব পরিস্থিতি, কাজের অগ্রগতি এবং বইয়ের গুণগত মান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শন করা ছাপাখানাগুলো হলো—মৌসুমী অফসেট প্রেস, ফাইজা প্রিন্টিং প্রেস, শৈলী প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা অফসেট প্রিন্টার্স, সোনালী ওয়েব প্রিন্টার্স এবং ন্যাশনাল প্রিন্টার্স।
কাগজ, কালি ও বাঁধাইয়ের মান যাচাই
পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন ছাপাখানায় চলমান পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তিনি বই ছাপার কাজে ব্যবহৃত কাগজের মান, কালির গুণগত মান, ছাপার স্পষ্টতা এবং বাঁধাইয়ের সূক্ষ্মতা পর্যবেক্ষণ করেন।
একই সঙ্গে মুদ্রণ কাজের বিভিন্ন ধাপ কতটা এগিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সক্ষমতা রয়েছে কি না এবং ছাপাখানাগুলোতে বই উৎপাদনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন।
মুদ্রণের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য নেন মন্ত্রী। বই তৈরির প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও তিনি গুরুত্ব দেন।
সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর তাগিদ
পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য পাঠ্যবই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে মুদ্রণের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত মান বজায় রেখে মুদ্রণকাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বইয়ের কাগজ, ছাপা ও বাঁধাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানহীনতা যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আকস্মিক পরিদর্শনে গুরুত্ব পেল বাস্তব অগ্রগতি
পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ সাধারণত একাধিক ধাপে সম্পন্ন হয়। কাগজ ও অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুত, মুদ্রণ, ভাঁজ, কাটিং, বাঁধাই এবং প্যাকেটজাতকরণসহ বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়। ফলে সময়মতো বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাতের বেলায় ছাপাখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে মুদ্রণ কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র দেখার চেষ্টা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে ছাপাখানাগুলোতে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজের অগ্রগতি এবং উৎপাদন কার্যক্রমও সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে মন্ত্রীর এ আকস্মিক পরিদর্শনকে সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাগুলোর কাজের মান ও সময়ানুবর্তিতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

