কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত কেউ তাকে ফোন করে অভিযান বন্ধ বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দেননি। বরং চলমান অভিযানে বিভিন্ন মহল থেকে সাধুবাদ পাওয়া যাচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার।
মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “কোনো ধরনের চাপ নাই। আজ পর্যন্ত আমাকে কেউই ফোন দেয় নাই। সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। কেউ চাপ দিলে আমি আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করে দেব।”
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় কোনো কিশোর বা শিক্ষার্থীকে আটকের পর পুলিশ হয়রানি করেছে—এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কিংবা পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, “পুলিশের কোনো সদস্য টাকা নিয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এক ফোঁটাও ছাড় নাই।”
অপরাধে জড়িত নয় এমন কিশোরদের যাচাই করে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর
পুলিশ সুপার জানান, অভিযানের আওতায় আসা সব কিশোরকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। যেসব শিক্ষার্থী বা কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের যাচাই-বাছাই করে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরার বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, “অভিভাবকদের বলা হচ্ছে, সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে না রাখতে।”
১৮ থানায় অভিযান, আটক ১ হাজার ২৯৪
অপ্রতিম হত্যা মামলার পর কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান পুলিশ সুপার। তালিকা তৈরির পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত অভিযান শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “অপ্রতিম হত্যা মামলার পরে আমরা টোটাল কিশোর গ্যাংয়ের একটি তালিকা করার কাজ করেছি। তালিকা করার পর আমরা গত ২৩ সেপ্টেম্বর পুরো কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় অভিযান করেছি।”
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে গ্যাং লিডারসহ মোট ১ হাজার ২৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের মূল লক্ষ্য কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত নয় এমন শিক্ষার্থী ও কিশোরদের যাচাই-বাছাই করে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অভিযান অব্যাহত থাকবে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে পুলিশ কোনো ছাড় দেবে না।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের সন্তানদের গতিবিধি ও বন্ধুত্বের বিষয়ে সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে নাগরিক সেবা সহজ করা, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবায় জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান নিয়ে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট করেন পুলিশ সুপার।

