ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

কলাপাড়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লাথির অভিযোগ, গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

কলাপাড়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লাথির অভিযোগ, গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যু

ছবিঃ সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় তানিয়া বেগম (২৫) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভপাত এবং পরে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তানিয়ার স্বামী হাবিব পাহলান (৪৫) ও বাবা দুলাল হাওলাদার (৫৫)কেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের মুন্সীবাড়ি স্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা তিন ব্যক্তিকে যান চলাচলের জন্য সরে যেতে বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে তানিয়ার স্বামী ও বাবার সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারধরে গড়ায়। তানিয়া স্বামী ও বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকে পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হাসপাতালে যাওয়ার পথে হামলার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় অটোচালক হাবিব পাহলান তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তানিয়া বেগম এবং শ্বশুর দুলাল হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।

পথে চাকামাইয়া ইউনিয়নের মুন্সীবাড়ি স্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে সোহাগ, মামুন ও শাওন শিকদার নামে তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের কারণে যান চলাচলে সমস্যা হওয়ায় হাবিব তাদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলেন।

এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই তিনজন হাবিবের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। তাকে মারধর করা হলে তার শ্বশুর দুলাল হাওলাদার এগিয়ে আসেন। তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্বামী ও বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার তানিয়া

অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী ও বাবাকে মারধর করতে দেখে তানিয়া বেগম তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং তার পেটে লাথি মারা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর তানিয়াসহ তার স্বামী ও বাবাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।

এরপর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তানিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের প্রবেশমুখে তার গর্ভপাত ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যু

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশমুখে তানিয়ার গর্ভপাতের পর নবজাতককে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হামলার অভিযোগ এবং গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে গর্ভপাত ও নবজাতকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ এবং হামলার সঙ্গে এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক তদন্ত ও চিকিৎসা নথিপত্রের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

পুলিশ পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলে

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তদন্তের অপেক্ষায় পরিবার

ঘটনার পর তানিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দেরও দাবি, হামলার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে—এসব বিষয় দ্রুত তদন্ত করে বের করা হোক।

এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার সময়কার অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!