ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

বগুড়ার শেরপুরে ৯ শিক্ষার্থীকে জিম্মি, কৌশলে ২ জন পালিয়ে উদ্ধার করল সবাইকে

বগুড়া প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১১:৪২ এএম

বগুড়ার শেরপুরে ৯ শিক্ষার্থীকে জিম্মি, কৌশলে ২ জন পালিয়ে উদ্ধার করল সবাইকে

ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় স্কুল চলাকালে নয় শিশুকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে কৌশলে একজন শিশু পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাকি শিশুদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় রাতেই শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্কুলে যাওয়ার পথে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্কুলে যাওয়ার পরই শিশুদের তুলে নেওয়ার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে শিশুরা উপজেলার মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে মহিপুর পিসি ভাড়াট্টা এলাকার মুকুল হোসেনের ছেলে মোতালেবসহ কয়েকজন তাদের জোরপূর্বক একটি ইজিবাইকে তুলে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে শিশুদের শেরপুর উপজেলার নয় মাইল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের জিম্মি করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিশুদের স্বজনরা।

ভুক্তভোগী শিশুদের বয়স ১১ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। তারা হলো—মামুন (১২), ওমর ফারুক (১২), সীমান্ত (১১), হান্নান (১৩), সুমন (১২), সাব্বির (১২), সিয়াম (১১), ফয়সাল (১৩) ও রিফাত (১২)।

শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায় এক শিশু

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রিফাত নামের এক শিশু কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। দুপুরের দিকে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়।

বাড়িতে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনা জানায় সে। পরে রিফাতের পরিবারের সদস্যরা অন্য শিশুদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে কয়েকজন অভিভাবক ও স্বজন একত্রিত হয়ে নয় মাইল এলাকায় গিয়ে শিশুদের উদ্ধার করেন।

শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

‘ছেলে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে ঘটনা জানায়’

ভুক্তভোগী এক শিশুর মা ফেন্সি বেগম বলেন, ছেলে বাসায় ফিরে হাঁপাতে হাঁপাতে পুরো বিষয়টি জানায়। এরপর তারা দ্রুত অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং শিশুদের উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, শিশুদের স্কুলে পাঠানোর পর এমন ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শিশুদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা হলেন—মহিপুর পিসি ভাড়াট্টা এলাকার মুকুল হোসেনের ছেলে মোতালেব, শাহিন মাস্টারের ছেলে হাসান, জামতলা এলাকার রাব্বি ও আশিক এবং নয় মাইল এলাকার সাব্বির হোসেনসহ আরও কয়েকজন।

তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।

থানায় লিখিত অভিযোগ

ঘটনার পর রাতে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুদের স্বজনরা। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত, শিশুদের কীভাবে বিদ্যালয় থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং কেন তাদের নয় মাইল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

স্কুল থেকে শিশুদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে নজরদারি বাড়াতে হবে।

বিশেষ করে বিদ্যালয়ের আশপাশে অপরিচিত ব্যক্তিদের চলাচল, শিশুদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছে এবং স্কুল ছুটির আগে বা পরে তাদের নিরাপত্তা—এসব বিষয়ে সতর্কতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পেছনের কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!