ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

গাবতলীতে ২৮ বছরেও স্থায়ী রাস্তা হয়নি, দুর্ভোগে আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা

গাবতলী প্রতিনিধি, আমিনুল আকন্দ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

গাবতলীতে ২৮ বছরেও স্থায়ী রাস্তা হয়নি, দুর্ভোগে আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা

ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ২৮ বছরেও নির্মাণ হয়নি স্থায়ী সড়ক। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নারুয়ামালা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নারুয়ামালা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে ঘর নির্মাণ করে একটি আদর্শ গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে সেখানে বিভিন্ন পরিবার বসবাস করে আসছে। কিন্তু গ্রামটি প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক হতে চললেও বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বর্ষায় বাড়ে দুর্ভোগ, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল

আদর্শ গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থায়ী রাস্তা না থাকায় প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় কাঁচা রাস্তা কাদায় ভরে যায় এবং অনেক জায়গায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম, শিক্ষা ও কর্মস্থলে যাতায়াত ব্যাহত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা সম্ভব হলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কাদামাটির কারণে হেঁটে চলাচল করতেও সমস্যা হয়। ফলে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও কর্মজীবী মানুষকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান বাসিন্দারা। তবে এসব দুর্ভোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো মূল্যায়ন বা রাস্তা নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সূচি পাওয়া যায়নি।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আদর্শ গ্রাম, ২৮ বছরেও হয়নি স্থায়ী সড়ক

সরকারিভাবে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করতে ১৯৯৮ সালে বাহাদুরপুর গ্রামে আদর্শ গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বসতি গড়ে উঠলেও গ্রামটির সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে উন্নত হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের মতে, একটি স্থায়ী রাস্তা শুধু যাতায়াতের সুবিধাই নিশ্চিত করে না; এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসাসেবা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে রাস্তার প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ এবং নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নিলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা

দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন।

স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হলে গ্রামের মানুষের চলাচল সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও অন্যান্য পেশার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটির কারণে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, তা থেকেও তাঁরা মুক্তি পেতে পারেন।

দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের

এ বিষয়ে নারুয়ামালা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হৃদয় হোসেন গোলজার জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাঁর এ বক্তব্যে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও প্রকল্পের বরাদ্দ, নির্মাণকাজ শুরুর সময় কিংবা কাজ শেষ করার সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান চান বাসিন্দারা

বাহাদুরপুর আদর্শ গ্রামের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁদের যাতায়াতের সমস্যাটি আর দীর্ঘায়িত হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করবে।

স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি গ্রামে ২৮ বছর পরও স্থায়ী রাস্তা না থাকা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাই মানুষের মৌলিক চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এবং নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!