ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

জাপানের সঙ্গে চুক্তির আড়ালে ভারতকে সুবিধা দিচ্ছে বিএনপি, অভিযোগ এনসিপির

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

জাপানের সঙ্গে চুক্তির আড়ালে ভারতকে সুবিধা দিচ্ছে বিএনপি, অভিযোগ এনসিপির

ছবিঃ সংগৃহীত

জাপানের সঙ্গে চুক্তির আড়ালে দেশের জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন দলটির নেতারা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তাঁরা এসব অভিযোগ করেন। এ সময় এনসিপির নেতারা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারের কথিত ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষার দাবি জানান।

আখতার হোসেন বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে এবং কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের এলাকাতেও অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাথী আক্তারের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।

জাপানের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, কোনো চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো দেশকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে সব আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতা সম্পাদন করতে হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে জাপানের সঙ্গে কোন চুক্তির বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কর্মসূচিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

কর্মসূচিতে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে দেশকে নতুন করে লুণ্ঠনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে জনস্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন কয়েকজন নেতা। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, সরকার এক থেকে দুই বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

এনসিপির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, আগামী নির্বাচনে নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএনপি এখন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় দলীয় লোকজন বসানোর চেষ্টা করছে। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সঙ্গী নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা করেন তাঁরা। এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, তোষামোদকারী এবং বিরোধী দলের সমালোচনায় সক্রিয় ব্যক্তিদেরই বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি

কর্মসূচিতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে দেখা যেত, এখন মন্ত্রীরাও অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এ পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা মন্ত্রী হয়েছেন, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর বর্তালেও তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়নি; বরং প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এ ঘটনাকে সরকারের জবাবদিহির ঘাটতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরের সঙ্গীদের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, সফরসঙ্গীদের কাছে সব সময় ফেরার টিকিট থাকে, কারণ তাঁরা জানেন সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। ক্ষমতায় থাকার সময়টুকু কাজে লাগিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্যের পক্ষে কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এলাকার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে মানুষ কথা বলতেও ভয় পায়। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য গুলশানে থাকেন, আর তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস), সহকারী ব্যক্তিগত সচিব (এপিএস) ও একটি কথিত গোষ্ঠী এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে আবারও বিতর্কিত করছে। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

বিদ্যুতের দাম ও চাঁদাবাজি নিয়েও অভিযোগ

এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসাও নিশ্চিত করতে পারেনি বলে তাঁর অভিযোগ; এমন পরিস্থিতিতে দলটি কীভাবে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

হান্নান মাসউদ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় দলকেই দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য দায়ী করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে জনগণের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বস্তি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিএনপিকে ‘ক্ষুদে বাকশাল’ বললেন সরোয়ার তুষার

কর্মসূচিতে এনসিপি নেতা সরোয়ার তুষার বিএনপিকে ‘ক্ষুদে বাকশাল’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুরকে অপরাধের পরীক্ষাগারে পরিণত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের পরিকল্পনা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।

সরোয়ার তুষার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হলে বর্তমান সরকার ইতিহাসে গণভোটের রায় হরণকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি

মোহাম্মদপুর টাউন হলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এনসিপির নেতারা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার পাশাপাশি ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুতের মূল্য ও চাঁদাবাজি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি গুরুত্ব পায়।

কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যগুলোতে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে সরকার, বিএনপি কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি প্রয়োজন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!