মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবরকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের কটাক্ষ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়া, তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং পরে খবরটি ভুয়া বলে আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য, একদিকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। পদত্যাগের খবরটি ভুয়া বলে জানার পর তাঁদের আবার নতুন করে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
‘বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা পড়েছেন বিপদে’
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা পড়েছেন বিপদে। গতকাল প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের কাজকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো, আবার আজকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো। লিখতে না লিখতেই জানা গেল পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ভুয়া। এখন আবার লিখতে হবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে না বলা কেন ভালো হয়েছে সেটি।’
তাঁর এই মন্তব্যে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমর্থকদের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। হাসনাতের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল পদত্যাগের খবরকে ঘিরে বিএনপিপন্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ব্যঙ্গ করা।
তবে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবে এসেছে। বিএনপির অ্যাক্টিভিস্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি।
দলের ভেতরের প্রতিক্রিয়া নিয়েও মন্তব্য
ইশরাক হোসেনকে ঘিরে দলের ভেতরের কিছু নেতাকর্মীর অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি লেখেন, ‘মাঝখান দিয়ে ইশরাক চিনে গেলেন নিজের দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা সেই সঙ্গীদের, যারা তার পদত্যাগে খুশি হয়েছেন, উল্লাস করেছেন।’
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইশরাকের পদত্যাগের খবরকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য মতপার্থক্য ও প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন। তবে কারা পদত্যাগের খবরে উল্লাস করেছেন, সে বিষয়ে পোস্টে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।
পূর্ণমন্ত্রী পার্থের পদত্যাগ দাবি করার পরামর্শ
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লেখেন, ‘এখন প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের উচিত হবে পূর্ণমন্ত্রী জনাব পার্থের পদত্যাগ দাবি করা। এই মিডিয়া ক্যূর পিছনে উনার হাত আছে কি-না খতিয়ে দেখা উচিত।’
এ মন্তব্যে তিনি পূর্ণমন্ত্রী পার্থের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কথিত ‘মিডিয়া ক্যু’-এর পেছনে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য পোস্টে তুলে ধরা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তাই পার্থের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ইঙ্গিতকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
পদত্যাগের খবর ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে পদত্যাগের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত খবরকে ভুয়া বলা হয়েছে—এমন তথ্যের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টদের অবস্থান নিয়ে ব্যঙ্গ করেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এখন জনপরিসরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির অন্যতম মাধ্যম। এসব পোস্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান, দলীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রতিপক্ষের সমালোচনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইশরাক হোসেনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে পদত্যাগের খবরের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং কথিত ‘মিডিয়া ক্যু’ নিয়ে কোনো প্রমাণ আছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

