জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচবিবি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের শাইলট্টি বিন্নিপাড়া গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে তার বৃদ্ধ দাদি হালিমা বেগমের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শফিকুল বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিতেন। বিস্কুট, চকলেট, চিপসসহ বিভিন্ন খাবার কিনে দিয়ে তাকে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, কিশোরী বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা অন্যদের কাছে প্রকাশ করা বা সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ অসুবিধা হতে পারে। এ কারণে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শফিকুল ওই কিশোরীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। সে সময় কিশোরী তার দাদি হালিমা বেগমের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘুমন্ত কিশোরীর পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরী জেগে উঠলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় দাদি হালিমা বেগম চিৎকার করলে শফিকুল তাঁকে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পাশের ঘরে থাকা কিশোরীর ফুফু ফাইমা ও প্রতিবেশী বকুল এগিয়ে এলে তাঁদের ধাক্কা দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবারের দাবি। এ সময় তাঁর একটি মোবাইল ফোন সেখানে পড়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আপস-মীমাংচেষ্টার অভিযোগ, সফল হয়নি বৈঠক
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পরদিন ১৩ অক্টোবর স্থানীয় একটি কারিগরি কলেজে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
এ বিষয়ে শাইলট্টি কলেজের অধ্যক্ষ জাকারিয়া বলেন, উভয় পক্ষ নিজেরাই বৈঠকে বসেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি।
অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের প্রস্তাব বা সমঝোতার চেষ্টার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
ন্যায়বিচার দাবি পরিবারের
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কিশোরীর দাদি হালিমা বেগম। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এমন ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকলে তার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রতিবন্ধী শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এ ঘটনায় গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের প্রত্যাশা, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং ভুক্তভোগী যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের
তবে শফিকুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ করা হয়েছে।’
ফলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচবিবি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফিরোজ বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্তের মধ্য দিয়ে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ ও অভিযুক্তের বক্তব্য—উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।

