ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

দুর্নীতির অভিযোগে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

দুর্নীতির অভিযোগে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তাঁদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সচিব সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের অধীন কর অঞ্চল, কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেটসহ রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে নজরদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

রাজস্ব প্রশাসনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা চিহ্নিত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন দপ্তরগুলোতে কর নির্ধারণ, রাজস্ব আদায়, শুল্কায়ন, ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, কর নিরীক্ষা ও করদাতাদের সেবা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব কার্যক্রমে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা হলে সরকারের রাজস্ব আহরণ এবং করদাতাদের সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। অভিযোগ যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল হাজিরা ও কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ

রাজস্ব প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর অঞ্চল, কাস্টমস হাউস ও ভ্যাট কমিশনারেটের মতো দপ্তরে সরাসরি সেবা প্রদান এবং রাজস্বসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা জরুরি।

ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, কর্মঘণ্টা অনুসরণ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতেও এ ধরনের ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।

করদাতাদের হয়রানি বন্ধে গুরুত্ব

এনবিআরের অধীন বিভিন্ন দপ্তরে করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। কর নির্ধারণ, রিটার্নসংক্রান্ত কার্যক্রম, ভ্যাট নিবন্ধন, শুল্কায়ন, পণ্য খালাস এবং অন্যান্য রাজস্বসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীরা যাতে অযথা বিলম্ব, অনিয়ম বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজস্ব প্রশাসনে সেবার মান উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত নিয়মে কাজ সম্পন্ন করা, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কোনো দপ্তরে সেবা দিতে অযৌক্তিক বিলম্ব বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনিক জবাবদিহির অংশ।

দাপ্তরিক কাজের অগ্রগতি ও প্রতিবেদন দাখিলে তদারকি

সচিব সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দাপ্তরিক কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, কর্মসম্পাদন পরিকল্পনা অনুসরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাদের কার্যক্রম নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাসময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে নজর দিতে হবে।

নিয়মিত তদারকি ও কাজের মূল্যায়নের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, দায়িত্ব পালনে ঘাটতি শনাক্ত করা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি যাচাই করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

চাকরিতে তদবিরকে শৃঙ্খলাপরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা

সরকারি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যেকোনো ধরনের তদবিরকে শৃঙ্খলাপরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চাকরিসংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি অনুসরণ এবং প্রভাব খাটানোর প্রবণতা নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করা জরুরি। ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা প্রভাবের পরিবর্তে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের চর্চা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সব রাজস্ব দপ্তরে নির্দেশনা বাস্তবায়নের গুরুত্ব

এসব নির্দেশনার আওতায় এনবিআরের অধীন দেশের সব কর অঞ্চল, কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট, কর গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থাসহ রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়ে নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সরকারের রাজস্ব আহরণ এবং করদাতাদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা, দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এসব নির্দেশনার বাস্তব ফল নির্ভর করবে অভিযোগ যাচাইয়ের কার্যকারিতা, অনিয়মের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিয়মিত তদারকির ওপর।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!