অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে হাইকোর্টের ওই রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত থাকছে। তবে করসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
৬৬৬ কোটি টাকার কর নিয়ে আইনি বিরোধ
গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছে। এ বিরোধে হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণকে ওই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রতিষ্ঠানটি।
সর্বশেষ চেম্বার জজ আদালতের আদেশে হাইকোর্টের রায় আপাতত স্থগিত হওয়ায় মামলাটি এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ১৩ ডিসেম্বরের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ভর করবে।
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি ১৩ ডিসেম্বর
আদালতের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনি যুক্তি বিবেচনার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
আইনগতভাবে কোনো রায় স্থগিত হওয়ার অর্থ মামলার মূল বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া নয়। এ ক্ষেত্রে চেম্বার জজ আদালতের আদেশের ফলে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত হয়েছে; কিন্তু এনবিআরের কর দাবি এবং গ্রামীণ কল্যাণের আপিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।
রাজস্ব আদায় ও করবিরোধের গুরুত্ব
বড় অঙ্কের করসংক্রান্ত বিরোধ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায় কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায় নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের মামলায় কর নির্ধারণের ভিত্তি, প্রযোজ্য আইন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ্রামীণ কল্যাণের ক্ষেত্রে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে আদালতের পরবর্তী আদেশের মাধ্যমে। তাই হাইকোর্টের রায় স্থগিতের বর্তমান আদেশকে কর দাবি বাতিল বা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির পর মামলাটির পরবর্তী অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।

