ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

৬৬৬ কোটি টাকার রায়ের পর আলোচনায় ড. ইউনূসের আরও অর্ধশত মামলা

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

৬৬৬ কোটি টাকার রায়ের পর আলোচনায় ড. ইউনূসের আরও অর্ধশত মামলা

ছবিঃ সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কর সংক্রান্ত আরও ৩১টি মামলা বর্তমানে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর দাবি কয়েকশ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। পাশাপাশি শ্রম আদালত ও শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনালেও ড. ইউনূসের সংশ্লিষ্ট আরও ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সম্প্রতি গ্রামীণ কল্যাণের একটি কর মামলায় হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দেন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া এসব মামলা বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ায় রাজনৈতিক ও আইনগত অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মামলা

গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের কর সংক্রান্ত মামলার রায়ে হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠানটিকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দেন। এ রায়ের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারাধীন থাকা অন্যান্য মামলা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রামীণ কল্যাণ ও ড. ইউনূস-সংশ্লিষ্ট কর সংক্রান্ত আরও ৩১টি মামলা হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এসব মামলায় এনবিআরের দাবিকৃত করের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে প্রতিটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দাবিকৃত অর্থকে আদালতের চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত কর হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপরই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে।

শ্রম আদালতেও ১৯ মামলা

কর সংক্রান্ত মামলার বাইরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইনসংক্রান্ত আরও ১৯টি মামলা শ্রম আদালত ও শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলারও বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

ফলে কর ও শ্রম—দুই ধরনের মামলায়ই ড. ইউনূস ও তাঁর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

আইনজীবীর দাবি ‘মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব মামলা ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, ড. ইউনূস ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই হাঁটছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে ড. ইউনূসকে জনপরিসরে চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে।

তবে আইনজীবীর এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

‘আদালতের রায়ের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই’

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের রায় ও আদেশই চূড়ান্ত বিবেচ্য। উচ্চ আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। আদালতের রায়ের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। ফলে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর সংক্রান্ত রায়ের বিস্তারিত কারণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে।

সামনে আরও শুনানি

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে বিচারাধীন কর মামলাগুলোর কয়েকটি হাইকোর্টে এবং কয়েকটি আপিল বিভাগে রয়েছে। ফলে এসব মামলায় পরবর্তী শুনানি ও আদালতের আদেশের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

একদিকে ড. ইউনূসের আইনজীবী এসব মামলা ও রায়কে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে বিচারাধীন মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পরই কর দাবির বিষয়ে আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!