ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

পাঁচবিবিতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও গাছ কাটার অভিযোগ

মোঃ বাবুল হোসেন, জয়পুরহাট জেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

পাঁচবিবিতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও গাছ কাটার অভিযোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. সামসাদ বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি বরাদ্দের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করা, গাছের ডাল কেটে বিক্রি এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দাতা পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর পক্ষে মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (আলম) জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গাছের ডাল কাটার অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হয়ে আসছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। এর মধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা একটি রেইনট্রি গাছের ডাল কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন ছাড়াই কেটে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ের সম্পত্তির অংশ হিসেবে থাকা গাছ বা গাছের ডাল কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গাছের ডাল কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খেলাধুলার সরকারি বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এপ্রিল ও মে ২০২৬ সময়ে বিদ্যালয়ের খেলাধুলার জন্য সরকারি বরাদ্দ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই অর্থ ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পুরস্কার বিতরণসহ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার কার্যক্রমে ব্যয় করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

ঝাড়ুদার না থাকলেও টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

বিদ্যালয়ে কোনো ঝাড়ুদার কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ঝাড়ুদার বাবদ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ের প্রকৃত ব্যয়, বরাদ্দের অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের হিসাব যাচাই করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এ কারণে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আসবাবপত্রের তালিকা ও উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ

বিদ্যালয়ের আসবাবপত্রের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চসহ অন্যান্য আসবাবপত্রের হিসাব ও তালিকা সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসা ও বিদ্যালয় থেকে বের হন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

‘শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে’

অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যালয়ের অর্থ ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

এ কারণে অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষকের

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. সামসাদ বেগম।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি পক্ষ অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে এসব অভিযোগ করেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

অভিযোগের বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জেছের আলী বলেন, “এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এ বক্তব্যের পর এখন অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো কতটা সত্য, সরকারি অর্থ ও বিদ্যালয়ের সম্পদের ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অর্থ, সম্পদ ও শিক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!