অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগটি অনুসন্ধান করতে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অন্য তিনজন হলেন—তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
দুদকের অনুসন্ধানের মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলি প্রক্রিয়া। অভিযোগ রয়েছে, বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।
দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এ অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অর্থ লেনদেনের সত্যতা পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা বা দায় নির্ধারণ করা হয়নি।
অনুসন্ধানকারী দল অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বদলির আদেশ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করবে বলে জানা গেছে।
নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ
এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাকে ঘিরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
অভিযোগের পরিধিতে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়মের বিষয়ও রয়েছে বলে জানা গেছে।
দুদক বলছে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের সঙ্গে কারা কীভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার প্রকৃতি কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
আগেও আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান
এর আগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক।
তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রাজনীতি ও আসন্ন সিটি নির্বাচন
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। বর্তমানে আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাকে সমর্থন করেছে এনসিপি।
দুদকের বর্তমান অনুসন্ধানের ফলাফল কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

