গণ-অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমর্থন ও প্রশংসা পেলেও, দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত লন্ডন গ্লোব-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত সংস্কারের অনেক উদ্যোগ বাস্তবে প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার নিয়ে সরকার ব্যাংকিং খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় এবং কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আর্থিক খাতের একটি অংশে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ শতাংশ পরিবার সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি ঘুষের শিকার হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট জরিপের উপস্থাপিত ফলাফলের অংশ এবং এগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমতও রয়েছে।
লন্ডন গ্লোবের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তৎকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকের চেয়ারম্যানের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় অনেক অভিযোগের তদন্ত এগোতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব দ্রুত নিয়োগ দিয়ে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে কোনো সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়াই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষ তদন্তই জনআস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

