ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ও পরিচ্ছন্নতায় সময়সীমা

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ও পরিচ্ছন্নতায় সময়সীমা

ছবিঃ সংগৃহীত

আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আবাসিক এলাকা ও ফুটপাত পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি সরেজমিনে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনে কয়েকটি স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোথাও সাত দিন, কোথাও দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

দিনের বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এসব আকস্মিক পরিদর্শনে জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা, সরকারি আবাসিক এলাকার পরিবেশ, ফুটপাত ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শিশু হাসপাতালে ধূমপানরত চিকিৎসক, সাময়িক বরখাস্ত

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে নিজ কক্ষে ধূমপানরত অবস্থায় সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকের কক্ষের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও তাঁর নজরে আসে। বিষয়টি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুদের চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ জরুরি।

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় সাত দিনের সময়

রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।

হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যের বিষয় নয়; রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গেও এটি সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে আইসিইউ ও অস্ত্রোপচারকক্ষের মতো সংবেদনশীল স্থানে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের নির্দেশ

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে কোয়ার্টারের পরিবেশ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাসিন্দারা এলাকার অপরিচ্ছন্নতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ জানান। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির প্রয়োজনীয়তা এ পরিদর্শনে সামনে আসে।

মিরপুর-১০-এ দখলমুক্ত ফুটপাত ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগে হকারদের দখলে থাকা ফুটপাত উচ্ছেদের পর পথচারীদের চলাচলে কতটা সুবিধা হচ্ছে, তা জানতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।

এ সময় পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী রাখা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নগর এলাকায় নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। ফুটপাত যেন আবার দখল হয়ে না যায়, সে জন্য কার্যকর নজরদারি ও ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান

মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ যেন শুধু কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিজেদের উদ্যোগে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে হবে।

বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।

আকস্মিক পরিদর্শনে সেবার মান ও জবাবদিহিতে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসাসেবার পরিবেশ, সরকারি আবাসিক এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এসব পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে হচ্ছে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী তদারকি, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সরকারি আবাসিক এলাকায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা এবং ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রয়োজন।

জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন এবং নাগরিকদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে আকস্মিক পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!