শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল উৎপাদন ও রপ্তানি কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি, ভুয়া প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি এবং অনুমোদন ছাড়াই পণ্য অপসারণের অভিযোগে চট্টগ্রামে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মাত্র ছয় মাসের প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা মামলায় সরকারের প্রায় ১ হাজার ৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগ উঠে এসেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবিনামা, কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বিচারাদেশও জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমের তথ্য এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্ড সুবিধার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করা এবং উৎপাদন খরচ কমাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সুযোগ দেওয়া। কিন্তু এই সুবিধা উৎপাদন ও রপ্তানির পরিবর্তে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরাও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।
ছয় মাসেই ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের বিভিন্ন ঘটনা শনাক্ত হয়। এসব ঘটনায় মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগের ধরন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড়, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট কারখানায় ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও আবার ভুয়া বা অসত্য প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির অভিযোগ উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদিত সীমার বাইরে কাঁচামাল অপসারণের অভিযোগও রয়েছে।
কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, এসব অনিয়মের ফলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক, কর, অর্থদণ্ড ও অন্যান্য আর্থিক দায়ের হিসাব করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও দাবিনামা জারি করা হয়েছে।
ইপিজেডকেন্দ্রিক অনিয়মের অভিযোগ
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড এলাকায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তালিকায় চট্টগ্রাম ইপিজেডের ১৩টি, কর্ণফুলী ইপিজেডের ২টি, কুমিল্লা ইপিজেডের ৫টি এবং ডিইপিজেড এলাকার ১৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অর্থাৎ, তৈরি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশকে ঘিরেই প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি করে থাকে।
কাস্টমসের নিয়ম অনুযায়ী, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা। কিন্তু তদন্তে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেই কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
৫৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমে শনাক্ত হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় বিপুল পরিমাণ শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। একটি সিইপিজেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৫৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের কালীবাজার এলাকার মেসার্স জাকির অ্যাপারেলসের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে মামলা হয়েছে। চলতি বছরের ৪ মার্চ করা ওই মামলায় শুল্ককর, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ দাবির পরিমাণ ২১৬ কোটি ৮৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের মামলায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার শর্ত লঙ্ঘন করেছে কি না, আমদানি করা পণ্য কোথায় ব্যবহার হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব কত—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়।
নর্থপোলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বন্ড সুবিধার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে নর্থপোল (বিডি) লিমিটেডের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ ও অস্তিত্বহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার কাঁচামাল অপব্যবহারের অভিযোগে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে।
এ ছাড়া সানটেনক্স অ্যাপারেলস (বিডি) লিমিটেড, সিটিজি ফোর ব্রাদার্স, দি নীড় অ্যাপারেলস, রয়েল ডেনিম লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা, দাবিনামা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নর্থপোলের ঘটনায় অভিযোগের আর্থিক পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। পৃথক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে প্রায় ১৪৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।
জাকির অ্যাপারেলসের বিরুদ্ধে ২১৬ কোটি টাকার দাবি
চট্টগ্রামের কালীবাজার এলাকার মেসার্স জাকির অ্যাপারেলসের বিরুদ্ধে করা মামলাটি আলোচনায় এসেছে বড় অঙ্কের রাজস্ব দাবির কারণে। অভিযোগ হলো, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
মামলায় শুল্ককর, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ ২১৬ কোটি ৮৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমে এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হেলা ক্লথিং ও সিটিজি ফোর ব্রাদার্সের বিরুদ্ধেও মামলা
সিইপিজেডের হেলা ক্লথিং বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে ১৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা শুল্ককর ফাঁকির মামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিউ চাক্তাই এলাকার সিটিজি ফোর ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা শুল্ককর ফাঁকির মামলা করা হয়েছে।
কুমিল্লা ইপিজেডের রয়েল ডেনিম লিমিটেডের বিরুদ্ধেও বন্ড সুবিধার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে চারটি পৃথক দাবিনামা জারি করা হয়েছে। এসব দাবিনামায় সংশ্লিষ্ট শুল্ককরের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া কুমিল্লার চান্দিনায় ডেনিম প্রসেসিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা শুল্ককর ফাঁকির মামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আদায়ে বিচারাদেশ
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের ঘটনায় শুধু মামলা বা কারণ দর্শানোর নোটিশেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকেনি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবিনামা জারি এবং বিচারাদেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জরিমানা, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ মোট ১৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আদায়ের জন্য বিচারাদেশ জারি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমে অনিয়ম শনাক্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে মামলা, দাবিনামা বা অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইনগত প্রতিকার ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচ্য।
বন্ড সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর ছাড় পায়। এর উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেশের রপ্তানি খাতকে সক্ষম করা।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার সুযোগ নিয়ে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি করার পর সেগুলো নিজেদের উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেয়। এতে শুল্ক-কর পরিশোধ না করেই বাজারে পণ্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র, কাগজপত্র বা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের আড়ালে বন্ড সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তার নামে বন্ড সুবিধা ব্যবহার হয়েছে কি না, আমদানি করা কাঁচামালের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও কাস্টমসের নজরদারির আওতায় থাকে।
সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরা চাপে
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের ফলে সরাসরি সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ে বৈধভাবে শুল্ক-কর পরিশোধকারী ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপরও।
কারণ, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হতে পারে। এতে নিয়ম মেনে শুল্ক-কর পরিশোধ করে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়তে পারে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ড সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমদানি করা কাঁচামাল যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, বন্ডের শর্ত অনুসরণ করা হচ্ছে কি না এবং কোনো পণ্য অনুমোদন ছাড়া স্থানীয় বাজারে যাচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও শুল্ককর ফাঁকি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রিভেন্টিভ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ছয় মাসে ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা এবং প্রায় ১ হাজার ৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা বন্ড ব্যবস্থাপনায় নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে। এখন এসব মামলার আইনগত প্রক্রিয়া ও রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি কতটা হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

