ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সিগারেট খাতে রাজস্ব ফাঁকি, মাঠে এনবিআরের ২৭ টিম

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

সিগারেট খাতে রাজস্ব ফাঁকি, মাঠে এনবিআরের ২৭ টিম

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজস্ব আদায়ের অন্যতম বড় উৎস তামাক খাতে নকল ব্যান্ডরোল, অবৈধ সিগারেট, চোরাচালান এবং নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন অভিযানে বারবার বেরিয়ে আসছে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের প্রমাণ। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ বাজার শক্তিশালী হয়ে বৈধ ব্যবসার জন্যও তৈরি হচ্ছে অসম প্রতিযোগিতা।

সর্বশেষ মানিকগঞ্জের শিবালয়ে একটি তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযানে নকল ব্যান্ডরোলসহ বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দের ঘটনা ফের সামনে এনেছে তামাক খাতের রাজস্ব ফাঁকির চিত্র। সংশ্লিষ্টদের তথ্য ও গবেষণা বলছে, উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ ও খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো চেইনে নজরদারি জোরদার করা না গেলে এ খাতে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা কঠিন।

শিবালয়ে অভিযানে নকল ব্যান্ডরোলের সন্ধান

গত ১১ আগস্ট মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ‘বিউটি টোব্যাকো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পুলিশ ও কাস্টমসের যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ‘কিং ব্ল্যাক’, ‘ডি অ্যান্ড জি’, ‘ডলার’, ‘সেনর গোল্ড’ ও ‘বার্বি’ ব্র্যান্ডের প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার শলাকা সিগারেট এবং ১৩ হাজার ট্যাক্স স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়।

পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে জব্দ করা সিগারেটের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার শলাকায় নকল ব্যান্ডরোল এবং আরও ১৩ হাজার অব্যবহৃত নকল ব্যান্ডরোল পাওয়ার কথা জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এসবের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।

এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। এর আগেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নকল ব্যান্ডরোল, জাল ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও অবৈধ সিগারেটের সন্ধান পেয়েছে রাজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

৯ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও মিলেছিল ঈশ্বরদীতে

২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীর ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানায় অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানে প্রায় ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫৯০ শলাকা জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট এবং ১০ লাখ ২৯ হাজার পিস অব্যবহৃত জাল ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রাথমিক হিসাবে, ওই ঘটনায় প্রায় ৯ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য সামনে আসে।

এ ধরনের একের পর এক অভিযান তামাক খাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অবৈধ উৎপাদন ও বিপণনের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের বিষয়টি সামনে আনছে।

এক বছরে প্রায় ১৮ হাজার অভিযান

এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ফাঁকি, নকল ব্যান্ডরোল ও অবৈধ তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এত বিপুল সংখ্যক অভিযান পরিচালনার পরও যদি একই ধরনের ঘটনা বারবার সামনে আসে, তাহলে শুধু অভিযান নয়—তামাকের কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে কারখানা, ব্যান্ডরোল ব্যবহার, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত নজরদারির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সিগারেট থেকে এনবিআরের রাজস্ব ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

তামাক খাত সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিগারেট খাত থেকে মোট প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এর মধ্যে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (ভ্যাট) থেকেই এসেছে প্রায় ৪৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা।

আগের বছরগুলোতেও এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ৪০ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ হাজার ৯১৫ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩২ হাজার ৮১৬ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৯ হাজার ৬৫৪ কোটি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৭ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছিল।

অর্থাৎ সরকারের রাজস্ব আয়ে তামাক খাতের গুরুত্ব যেমন বাড়ছে, তেমনি এ খাতে ফাঁকি রোধ করতে পারলে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

শুধু বিক্রিতেই বছরে ৫ হাজার ১৮২ কোটি টাকার ফাঁকি!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিউরো অব ইকোনমিক রিসার্চ’ এবং বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, কেবল বিক্রির পর্যায়েই সিগারেট খাতে বছরে প্রায় ৫ হাজার ১৮২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে।

গবেষণার হিসাবে, বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত দামে সিগারেট বিক্রির কারণে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। উচ্চ ও নিম্নসহ বিভিন্ন মূল্যস্তরে এ ফাঁকির পরিমাণ আলাদা হলেও সামগ্রিকভাবে এটি সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নকল সিগারেট ও জাল ব্যান্ডরোলের হিসাবও যুক্ত করলে তামাক খাতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

নজরদারিতে এনবিআরের ১১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি

রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করতে এবার কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত তামাক খাতের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে এনবিআর।

এ জন্য গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় গঠন করা হয়েছে ২৭টি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম।

প্রতিটি কমিশনারেটভিত্তিক টিমে পাঁচজন করে সদস্য থাকবেন। এসব টিম তামাক কারখানা, বাজার, গুদাম, পরিবহনব্যবস্থা ও খুচরা দোকানে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি করবে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নকল বিড়ি, সিগারেট ও নকল ব্যান্ডরোল শনাক্ত করাই শুধু লক্ষ্য নয়; বরং উৎপাদন থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে নজরদারির আওতায় আনা হবে।

কাঁচা তামাকপাতা থেকে খুচরা দোকান—সবখানেই নজরদারি

এনবিআরের নতুন পরিকল্পনায় ‘গ্রিন লিফ প্রসেসিং’ বা কাঁচা তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যায়েও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

তামাকপাতা কোথা থেকে সংগ্রহ হচ্ছে, কত পরিমাণে সংগ্রহ হচ্ছে, কোথায় প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে, কারখানায় কত কাঁচামাল যাচ্ছে এবং সেই অনুপাতে কত সিগারেট উৎপাদন হচ্ছে—এসব তথ্য যাচাই করা হবে।

একই সঙ্গে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত কাগজ আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, দেশে সিগারেটের কাগজ আমদানিকারক সাতটি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয়ভাবে কাগজ প্রস্তুতকারী দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হবে।

নকল ব্যান্ডরোল: রাজস্ব ফাঁকির বড় হাতিয়ার

সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল মূলত সরকারকে প্রদেয় কর-রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। ফলে নকল বা পুনর্ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে বাজারজাত করা হলে সরকার একদিকে রাজস্ব হারায়, অন্যদিকে ক্রেতার কাছে বৈধ পণ্যের ছদ্মবেশে অবৈধ পণ্য পৌঁছে যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, একটি চক্র ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল সংগ্রহ করে পুনরায় সিগারেটের প্যাকেটে লাগাতে পারে। আবার কোথাও কোথাও নকল ব্যান্ডরোল তৈরি করে বৈধ পণ্যের সঙ্গে অবৈধ পণ্য বাজারজাত করার চেষ্টা করা হয়।

এ কারণে ব্যান্ডরোল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

দেশে অবৈধ সিগারেটের বাজার কতটা বড়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অবৈধ তামাক বাণিজ্যের কারণে সরকারগুলো বছরে প্রায় ৪০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব হারায়।

বাংলাদেশেও অবৈধ সিগারেটের বাজার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একটি গবেষণার হিসাবে, দেশের মোট সিগারেট বাজারের প্রায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ অবৈধ পণ্যের দখলে থাকতে পারে।

পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, মানিকগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় অবৈধ সিগারেট উৎপাদনের নেটওয়ার্ক থাকার কথা সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও অভিযানের তথ্য থেকে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম, টেকনাফ ও বিভিন্ন বিমানবন্দর ও নৌপথ ব্যবহার করে বিদেশি সিগারেট চোরাচালানের অভিযোগও রয়েছে।

এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রিও রাজস্ব ক্ষতির কারণ

তামাক খাতে রাজস্ব ফাঁকির আরেকটি বড় জায়গা হচ্ছে খুচরা বাজার।

গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেটে নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপির চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তা অতিরিক্ত অর্থ দিলেও সেই অতিরিক্ত মূল্যের ওপর যথাযথ কর-রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।

অর্থনীতিবিদ ও তামাকবিরোধী গবেষকদের মতে, উৎপাদক থেকে পরিবেশক, পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ চেইনের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে।

ডিজিটাল ট্র্যাকিং-ট্রেসিংয়ের পরামর্শ

বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) কনভেনর অধ্যাপক ড. রুমানা হক তামাকপণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ডিজিটাল ট্র্যাকিং-ট্রেসিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তার মতে, প্রতিটি তামাকপণ্যের উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রয় পর্যায়ে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে পণ্যটি বৈধভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং যথাযথ কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।

তিনি কিউআর কোডভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, শুধু সিগারেট নয়—জর্দা ও গুলের মতো অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন।

তামাক শিল্পের প্রভাব নিয়ে সতর্কতা

তামাক খাতের নীতিনির্ধারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

অধ্যাপক ড. রুমানা হকের মতে, তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায়ের নীতি নির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (FCTC) নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

তার ভাষ্য, রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বিবেচনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে এবং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।

চোরাচালান বন্ধেও বাড়াতে হবে নজরদারি

দেশীয় নকল সিগারেটের পাশাপাশি বিদেশি সিগারেট চোরাচালানও সরকারের রাজস্বের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমুদ্রপথ, নৌপথ, স্থলসীমান্ত ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিদেশি সিগারেট দেশে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্য বৈধ আমদানি প্রক্রিয়ার বাইরে বাজারে আসায় সরকার একদিকে আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব হারায়, অন্যদিকে স্থানীয় বৈধ উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তাই কাস্টমস, ভ্যাট, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

রাজস্ব সুরক্ষায় সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

তামাক খাত থেকে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও নকল ব্যান্ডরোল, অবৈধ সিগারেট, চোরাচালান ও নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণ করে—এই খাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

এনবিআরের ১১ সদস্যের কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি এবং ২৭টি এনফোর্সমেন্ট টিম মাঠে কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে রাজস্ব ফাঁকি কমানোর সাফল্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদে এই চক্র বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন কাঁচামাল থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং, শক্তিশালী ডাটাবেজ, ব্যান্ডরোলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নিয়মিত বাজার তদারকি, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা।

কারণ, তামাক খাত থেকে বৈধভাবে যত বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে, অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তত বেশি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরানো সম্ভব হবে। আর এই বিশাল রাজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে নকল ব্যান্ডরোল ও অবৈধ সিগারেটের পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক অভিযানই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!