ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

আত্মীয়ের বাইরেও কিডনি দানের সুযোগ, ইমোশনাল ডোনারে প্রথম সফল প্রতিস্থাপন বিএমইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:৩১ এএম

আত্মীয়ের বাইরেও কিডনি দানের সুযোগ, ইমোশনাল ডোনারে প্রথম সফল প্রতিস্থাপন বিএমইউতে

ছবিঃ সংগৃহীত

পরিবারের সদস্য বা নিকট আত্মীয়ের বাইরে স্বেচ্ছায় কিডনি দানের মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’-এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। উপাচার্যের দাবি, এই সফল প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

আত্মীয়ের বাইরে কিডনি দানের সুযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিএমইউ উপাচার্য বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এখন নিকট আত্মীয়ের বাইরেও স্বেচ্ছায় কিডনি দানের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে দাতার সঙ্গে গ্রহীতার সম্পর্ক, দানের উদ্দেশ্য এবং আইনগত ও চিকিৎসাগত বিষয়গুলো কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

তিনি বলেন, ইমোশনাল ডোনারের ক্ষেত্রে কিডনি দানের সিদ্ধান্তটি স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়েছে কি না, এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা চাপ রয়েছে কি না এবং দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের প্রকৃতি কী—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে তারপর প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইমোশনাল ডোনার যাচাইয়ে একাধিক সংস্থা

বিএমইউ উপাচার্য জানান, ইমোশনাল ডোনার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দাতার আইনগত অবস্থানসহ প্রয়োজনীয় বিষয় পরীক্ষা করে। পাশাপাশি হাসপাতালের নিজস্ব একটি বিশেষজ্ঞ টিমও দাতা ও গ্রহীতার বিষয়ে চিকিৎসাগত এবং অন্যান্য জটিল বিষয় পর্যালোচনা করে।

তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ইমোশনাল ডোনার হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিডনি দেওয়ার জন্য উপযুক্ত কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ শুধু স্বেচ্ছায় কিডনি দানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেই প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না; আইনগত, চিকিৎসাগত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।

কোনো অর্থ লেনদেন করা যাবে না

কিডনি দানের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, কোনো অবস্থাতেই কিডনি দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে অর্থ লেনদেন হতে পারবে না।

তিনি জানান, ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও দানের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক হতে হবে। অর্থের বিনিময়ে অঙ্গদান বা অঙ্গ সংগ্রহের সুযোগ নেই।

দীর্ঘ জটিলতার পর আবার নিয়মিত কিডনি প্রতিস্থাপন

বিএমইউ উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতার কারণে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত ছিল। এখন সেই জটিলতা কাটিয়ে নিয়মিত কিডনি রোগীদের সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সামনে নিয়মিতভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় দাতার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক রোগীর পরিবারে উপযুক্ত কিডনি দাতা না থাকায় প্রতিস্থাপনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় আইনসম্মত ও চিকিৎসাগতভাবে যাচাই করা ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে প্রয়োজনীয় রোগীদের জন্য দাতার পরিধি বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসম্মতি, দাতার শারীরিক নিরাপত্তা, গ্রহীতার চিকিৎসাগত উপযোগিতা, আইনগত যাচাই এবং আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি সম্ভাব্য ইমোশনাল ডোনারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেই কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে নতুন এই ব্যবস্থায় একদিকে যেমন কিডনি রোগীদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ বাড়তে পারে, অন্যদিকে দাতা সুরক্ষা ও অঙ্গদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!