ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

দণ্ডিত প্রকৌশলীর হাতে ২,৫৯৮ কোটি টাকার ওয়াসা প্রকল্প, খুলনায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

দণ্ডিত প্রকৌশলীর হাতে ২,৫৯৮ কোটি টাকার ওয়াসা প্রকল্প, খুলনায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শেষে শাস্তি পেয়েছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি এবং চার বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিতের। কর্মস্থলে নিয়মিত দেরিতে উপস্থিত হওয়া, সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশও পেয়েছেন। তদবির বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ ও আগের শাস্তির পরও থামেনি তাঁর পদোন্নতি ও পদায়নের পথ।

আলোচিত এই প্রকৌশলীর নাম আরিফুল ইসলাম জুয়েল। বিএনপি-সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তিনি। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ দেওয়ার পর ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হয়েছেন তিনি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের তদন্তে জুয়েলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালে তাঁর শাস্তি প্রত্যাহার এবং পদোন্নতির ঘটনা সামনে আসে। এর পর খুলনা ওয়াসায় তাঁর নিয়োগ ও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আরিফুল ইসলাম জুয়েল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল এবং অভ্যুত্থানের পর সেই শাস্তি প্রত্যাহার ও পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

ভবন নির্মাণে অনিয়ম, পদাবনতি ও পদোন্নতি স্থগিত

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম জুয়েল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তাঁর তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ২০১৬ সালে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রবীণ শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটির তদন্তে ভবনের ছাদের কংক্রিটের পুরুত্বে গুরুতর অসংগতি পাওয়া যায়। নকশা অনুযায়ী ছাদের পুরুত্ব সাড়ে ৫ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও কোথাও ৩ ইঞ্চি এবং কোথাও ৩ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে এ ধরনের নির্মাণ ত্রুটির কারণে ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে।

তদন্তে আরও বলা হয়, ছাদ ঢালাইয়ের সময় আরিফুল ইসলাম জুয়েল বিদেশে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে অনুপস্থিত সময়ের নির্মাণকাজ যাচাই না করেই নির্মাণকাজের নথিতে (এমবি) স্বাক্ষর করে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধে সহায়তা করেন তিনি ও আরও ছয়জন। এ ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শাস্তির অংশ হিসেবে আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদ থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে অবনতি করা হয়। একই সঙ্গে চার বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়।

অভ্যুত্থানের পর শাস্তি প্রত্যাহার, পদোন্নতি

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিএনপি-সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাবের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ান জুয়েল। এ সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া আগের শাস্তি প্রত্যাহার করানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

২০২৫ সালে তাঁকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। আগের শাস্তি প্রত্যাহার ও পদোন্নতির এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। ভবন নির্মাণে অনিয়মের তদন্তে দণ্ডিত একজন প্রকৌশলী কী প্রক্রিয়ায় শাস্তি থেকে অব্যাহতি পেলেন এবং পদোন্নতি পেলেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তবে জুয়েলের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। অভ্যুত্থানের পর সেই শাস্তি প্রত্যাহার এবং পদোন্নতি দিয়ে তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

খুলনা ওয়াসায় বদলি, এরপর প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ দেন আরিফুল ইসলাম জুয়েল। সূত্র জানায়, ২৮ জুন তিনি ওয়াসায় যোগদান করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে অন্য সংস্থায় প্রেষণে পাঠানোর ঘটনা হিসেবে এটি ছিল প্রথম।

ওয়াসায় যোগদানের পর তিনি ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের ফেজ-২-এর পরিচালক পদে দায়িত্ব পান। অভিযোগ রয়েছে, অ্যাবের কেন্দ্রীয় নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এ পদে নিয়োগ নিশ্চিত করেন।

এর আগে প্রকল্পটির রুটিন দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম। গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ২৯ জুলাই প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহকে। এরপর তাঁকেও সরিয়ে প্রকল্পটির দায়িত্ব দেওয়া হয় আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে।

এভাবে একই প্রকল্পের দায়িত্বে একাধিক পরিবর্তনের ঘটনায় ওয়াসার প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রকল্পটির বিপুল অর্থমূল্য ও নগরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক থাকায় প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

তদবির বাণিজ্যের অভিযোগে বিএনপি নেতাদের চিঠি

অভ্যুত্থানের পর বিএনপি ও অ্যাবের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পদায়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে। খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৫ সালে অ্যাব সভাপতি ও আইইবির চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামকে লিখিত চিঠি দেন।

চিঠিতে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন উল্লেখ করেন, গত ৭-৮ মাস ধরে একের পর এক অভিযোগ আসছে। দলের পদ ব্যবহার করে আরিফুল ইসলাম জুয়েল কুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরে গিয়ে হুমকিধমকি দিচ্ছেন এবং নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। বিভিন্ন অফিসে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তদবির করার অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপি নেতারা চিঠিতে আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে চিঠি দেওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের কার্যকর সমাধান হয়নি বলে সূত্রের দাবি। বরং পরবর্তী সময়ে ওয়াসায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও বড় প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিতি, একাধিকবার শোকজ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়া, সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে একাধিকবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে পরবর্তী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ কর্মদিবসের মধ্যে ৫৪ দিনই তিনি দেরিতে অফিসে উপস্থিত হন। এ সময়ে তাঁর গড় অফিস উপস্থিতির সময় ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮৬ ঘণ্টা।

এ নিয়ে গত ৪ মার্চ তাঁকে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াসায় নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ

খুলনা ওয়াসায় যোগদানের পরও আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাজিরা খাতায় তাঁর স্বাক্ষর এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট উপস্থিতির রেকর্ড পাওয়া যায় না।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওয়াসার মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি জরুরি। কিন্তু জুয়েলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অফিসে অনুপস্থিতি ও দেরিতে উপস্থিতির অভিযোগ থাকলেও ওয়াসায় তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি ও হাজিরা সংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন যাচাইও এই প্রতিবেদনে করা সম্ভব হয়নি।

নগরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহে উদ্বেগ

খুলনা ওয়াসা নগরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহ, পানি উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিল পরিশোধের ভোগান্তি, সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও জনসেবার নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়া একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আগের শাস্তি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব আইনজীবী বাবুল হাওলাদার বলেন, সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যর্থতা, বিল ভোগান্তি ও সড়ক খোঁড়াখুঁড়িসহ সব মিলিয়ে ওয়াসা অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটিকে সচল করতে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা দরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় দণ্ডিত ব্যক্তিরা জায়গা পেলে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা আরও নাজুক হবে।

ওয়াসার বক্তব্য

আরিফুল ইসলাম জুয়েলের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ বলেন, ‘পিডি নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এখানে আমার কিছু বলার নেই।’

ওয়াসার প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণ ও প্রকল্পের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন

একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আগের শাস্তি, পদোন্নতি স্থগিত, কর্মস্থলে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগের পরও গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রকল্পটির অর্থমূল্য ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা হওয়ায় নিয়োগের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি রয়েছে।

তবে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, শাস্তি প্রত্যাহারের আদেশ, পদোন্নতির নথি ও ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সরকারি প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনা প্রয়োজন। এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!