পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসংলগ্ন গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকার প্রধান ফটকের সামনে এক রাশিয়ান নাগরিক ও স্থানীয় এক নারীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোলের শিশুকে কেন্দ্র করে ওই নারী রাশিয়ান নাগরিকের কাছে সন্তানের দায়িত্ব ও সম্পর্কের স্বীকৃতি দাবি করেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটে আজ দুপুরে গ্রিন সিটির প্রধান গেটের সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে ওই রাশিয়ান নাগরিক নারীকে সরিয়ে দিয়ে আবাসিক এলাকার ভেতরে চলে যান। পরে কান্নারত অবস্থায় ওই নারী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
কোলের শিশুকে নিয়ে গ্রিন সিটির সামনে নারী
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত এক রাশিয়ান নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক নারীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। ওই সম্পর্কের সূত্রে তাদের একটি সন্তান রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ওই রাশিয়ান নাগরিক সম্পর্কটি আর রাখতে চাইছেন না—এমন অভিযোগ তুলে ওই নারী তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে সন্তানের দায়িত্ব ও পরিচয় নিয়ে বিষয়টির সমাধান দাবি করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে কোলের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারী গ্রিন সিটির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। রাশিয়ান নাগরিক সেখানে আসার পর তিনি সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া এবং তাদের সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে চান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বাকবিতণ্ডা থেকে ধস্তাধস্তি
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথা বলার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। পরে রাশিয়ান নাগরিক ওই নারীকে সরিয়ে দিয়ে গ্রিন সিটির ভেতরে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ওই নারী শিশুকে নিয়ে কান্নারত অবস্থায় একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান।
তবে এ ঘটনায় ওই নারী বা রাশিয়ান নাগরিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে সম্পর্কের প্রকৃতি, সন্তানের পিতৃত্ব এবং ঘটনাটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার দৃশ্য
ঘটনার পর এর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে ঈশ্বরদী ও রূপপুর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও বা ছবির সত্যতা এবং এর পূর্ণ প্রেক্ষাপট আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব দৃশ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।
সম্পর্ক ও সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—সন্তানের পিতৃত্বের দাবি এবং সন্তানের দায়িত্ব কে নেবেন। তবে এসব বিষয়ে কোনো আদালতের নথি, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, লিখিত চুক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ এ ধরনের আন্তঃদেশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের আইনগত অধিকার, সন্তানের পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্বের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্ককে অবৈধ, অনৈতিক বা আইনবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো আনুষ্ঠানিক তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই
ঘটনাটি নিয়ে ঈশ্বরদী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বা গ্রিন সিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। তবে প্রকৃত ঘটনা, সন্তানের পিতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল জানা জরুরি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট নারী, শিশু ও বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করার প্রয়োজন রয়েছে।

