ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে পিকনিকের নৌকার ধাক্কা, নিখোঁজ ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে পিকনিকের নৌকার ধাক্কা, নিখোঁজ ১

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে পিকনিকের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ধাক্কায় তিনজন পদ্মা নদীতে পড়ে যান। পরে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মো. রকি হোসেন নামে একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পাকশী এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫ নম্বর পিলারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা থেকে ১২৩ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকায় (ট্রলার) পিকনিকের উদ্দেশ্যে রাজশাহী যায়। পিকনিক শেষে দলটি নৌকাযোগে নিজ এলাকায় ফেরার পথে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচ দিয়ে অতিক্রম করছিল।

রাত সোয়া ৯টার দিকে ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের মধ্যে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫ নম্বর পিলারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে নৌকায় থাকা তিনজন যাত্রী পানিতে পড়ে যান।

দুর্ঘটনার পর নৌকায় থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

দুইজনকে জীবিত উদ্ধার, নিখোঁজ একজন

উদ্ধার অভিযানের সময় মো. লিটন হোসেন (৩৮) ও মো. ওয়াহাব (৪৫) নামে দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে মো. রকি হোসেনকে তখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারপরও নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পদ্মা নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা থেকে তিনজন পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নৌকায় থাকা ১২৩ জনের নিরাপত্তা এবং নৌযানটির চলাচল পরিস্থিতি নিয়েও সংশ্লিষ্টরা খোঁজখবর নিচ্ছেন। নদীতে তীব্র স্রোতের মধ্যে ব্রিজের পিলারের কাছ দিয়ে নৌযান চলাচলের সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ধার অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে আরও স্পষ্ট হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!