সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট নিয়ে চলমান ভোগান্তি শিগগিরই অনেকটাই কমে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। ই-পাসপোর্ট সেবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শুরুতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও বর্তমানে সেবা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে প্রবাসী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত।
সভায় সৌদি আরবে ই-পাসপোর্ট সেবার বর্তমান পরিস্থিতি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রবাসীদের ভোগান্তি এবং সেবা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শুরুতে তৈরি হয় চাপ
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, সৌদি আরবে প্রায় দেড় মাস আগে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়েছে। নতুন এই সেবা চালুর পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। ফলে প্রত্যাশার তুলনায় ই-পাসপোর্টের আবেদন অনেক বেড়ে যায়।
হঠাৎ করে আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেবা কার্যক্রমের শুরুতে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। এর ফলে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রবাসীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন প্রদেশে বাড়ানো হয়েছে সেবা কার্যক্রম
রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের জনবল ও সেবা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রবাসীদের যাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয় এবং জমে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সে বিষয়েও দূতাবাস গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
প্রতিদিন ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করছে দূতাবাসের টিম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় কাজ করছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা দূতাবাসের টিম কাজ করছে।
তার মতে, অতিরিক্ত সময় কাজ করার পাশাপাশি জনবল ও সেবা কার্যক্রম বাড়ানোর ফলে ই-পাসপোর্টের আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ছে। এর ফলে অচিরেই প্রবাসীদের পাসপোর্টসংক্রান্ত ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
৮০ শতাংশ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বাকি আবেদনগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দূতাবাসের উদ্যোগের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করলে সেবা কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
প্রবাসীদের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রদূত
ই-পাসপোর্ট সেবাকে আরও কার্যকর করতে প্রবাসীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেবা কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস ও কর্মরত থাকায় ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর পর এর চাহিদাও ব্যাপক হয়েছে। ফলে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়
মতবিনিময় সভায় সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সেবা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে ই-পাসপোর্ট সেবার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে প্রবাসীদের জন্য সেবা আরও সহজ করার বিষয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
সভায় রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছাড়াও সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট সেবার প্রায় ৮০ শতাংশ আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ অব্যাহত থাকায় সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের পাসপোর্টসংক্রান্ত ভোগান্তি ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

