গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার বংখুরী এলাকার প্রবাসী হাসেম মিয়ার ছেলে আশাদুল ইসলাম। ঘটনাস্থলে নিহত অপর দুই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চালকসহ পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
স্থানীয়রা সিএনজিতে থাকা দুই যাত্রীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে আহত অবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশাদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। ফলে এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজনে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কিশোরের মৃত্যু
নিহত আশাদুল ইসলামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নিহত অন্য দুই ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, দুই গাড়ি জব্দ
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, চালকসহ পাঁচজন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিল। কাঞ্চনপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
প্রাথমিকভাবে মুখোমুখি সংঘর্ষের বিষয়টি জানা গেলেও ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কাভার্ড ভ্যানের গতি, সড়কের পরিস্থিতি, চালকদের অসতর্কতা কিংবা অন্য কোনো কারণে সংঘর্ষ ঘটেছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ওই সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক হওয়ায় সেখানে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সড়কে নিরাপদ গতি বজায় রাখা এবং চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

