ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলল ভিন্ন চিত্র পল্লী বিদ্যুতের

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলল ভিন্ন চিত্র পল্লী বিদ্যুতের

ছবিঃ সংগৃহীত

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করা সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ তদন্ত করে ভিন্ন চিত্র পেয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। সংস্থাটির স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে একটি নয়, মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে। আর গত চার মাসে ওই তিনটি মিটারে সব মিলিয়ে বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিফাতের বাড়িতে থাকা তিনটি আবাসিক মিটারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিলসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। চার মাসের হিসাব অনুযায়ী তিন মিটারে মোট ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা বিল এসেছে। অর্থাৎ তিনটি মিটার মিলিয়ে মাসিক গড় বিল দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ টাকা।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তদন্তে সেই অভিযোগের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের প্রকৃত তথ্যের পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান। সেখানে বাসায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্তু কর্মকর্তারা বৈদ্যুতিক পণ্যের তালিকা চাইলে বাড়ির লোকজন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ফলে বাড়িতে কী ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর সংখ্যা কত এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে মিটার রিডিংয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সরেজমিনে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনের তথ্য থেকে জানা যায়।

তিন মিটারে চার মাসে বিল ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে মোট তিনটি আবাসিক মিটার রয়েছে। গত চার মাসে এসব মিটারে পৃথকভাবে বিদ্যুৎ বিল তৈরি হয়েছে এবং তিনটি মিটারের বিল যোগ করে মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো গ্রাহকের অভিযোগ থাকলে মিটার রিডিং, পূর্ববর্তী মাসের ব্যবহার, বর্তমান ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সংযোগের লোড পর্যালোচনা করে বিষয়টি যাচাই করা হয়। একইভাবে সিফাতের অভিযোগও যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব বিলের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা না পাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় সরেজমিনে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফেসবুক ভিডিও ঘিরে আলোচনা

এর আগে গত বুধবার সিফাত আব্দুল্লাহ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।

তদন্ত শেষে সংস্থাটির প্রতিবেদনে তিনটি আবাসিক মিটার, চার মাসে মোট ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা বিল এবং কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ যাচাইয়ে নথিভুক্ত তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো গ্রাহকের অভিযোগ উঠলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও বা বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মিটারের রিডিং, বিলের কপি, সংযোগের ধরন ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদনে তিনটি মিটারের তথ্য সামনে এসেছে।

তবে সিফাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদনের বক্তব্যের বিষয়ে কোনো পৃথক ব্যাখ্যা বা পাল্টা বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তাই অভিযোগ ও তদন্ত—দুই পক্ষের বক্তব্যই সামনে রেখে বিষয়টি মূল্যায়ন করাই যুক্তিযুক্ত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল বা কোনো সরকারি সেবার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ, বিলের কপি ও মিটার রিডিংয়ের তথ্য উপস্থাপন করলে অভিযোগ যাচাই করা সহজ হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

সারকথা, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সিফাত আব্দুল্লাহর প্রকাশিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদনে তার সঙ্গে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, সিফাতের বাড়িতে তিনটি আবাসিক মিটার রয়েছে এবং গত চার মাসে তিন মিটারে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং গেট বন্ধ করে দেওয়ার কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!