গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবে বিষয়টি সঠিক নয়। জেলা প্রশাসনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেবল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কাশিমপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কাশিমপুর ভূমি অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে ঘুষ ছাড়া সেবা না দেওয়া, অযৌক্তিকভাবে ফাইল আটকে রাখা, নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর ও অন্যান্য সেবায় বিলম্ব ঘটানো এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানির অভিযোগ ছিল।
এসব অভিযোগের পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিষয়গুলো তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্তে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে একযোগে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা জনসেবায় অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে কাশিমপুর ভূমি অফিসে নেওয়া এই প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয় যে, গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কাশিমপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জেলার অন্যান্য উপজেলা বা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনগণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি তথ্য ও জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত `জিরো টলারেন্স` নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা সরকারি সেবা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

