ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

শ্রীপুরের গভীর জঙ্গলে ১২ ঘোড়ার মাথাসহ দেহাবশেষ, মাংস নিয়ে গেছে চক্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

শ্রীপুরের গভীর জঙ্গলে ১২ ঘোড়ার মাথাসহ দেহাবশেষ, মাংস নিয়ে গেছে চক্র?

ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর জঙ্গল থেকে অন্তত ১২টি ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, নাড়িভুঁড়ি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। নির্জন ওই স্থানে ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার পর দেহাবশেষ ফেলে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার কর্ণপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের বরমী ও গোসিংগা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মুদিপাড়া এলাকার গভীর জঙ্গলে এসব দেহাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘাস কাটতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রথমে সেগুলো দেখতে পান। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন ভিড় করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক থেকে একটি সরু হাঁটার পথ জঙ্গলের ভেতরে চলে গেছে। ওই পথের দুই পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি। ঘটনাস্থলের পরিবেশ দেখে তাদের ধারণা, রাতের আঁধারে সেখানে একাধিক ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির সরকার বলেন, ‘সড়ক থেকে একটি হাঁটার পথ জঙ্গলের ভেতরে গেছে। ওই পথের দুই পাশে ঘোড়ার মাথা, চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেখে মনে হয়েছে, এখানে ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

রাতে জবাইয়ের সন্দেহ

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন প্রধান বলেন, ‘গত রাতে ১০ থেকে ১২টি ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছি। সকালে কৃষকেরা বিষয়টি দেখে আমাকে জানান। পরে পুলিশকে জানানো হয়।’

স্থানীয়দের ধারণা, জঙ্গলের নির্জনতা ও লোকজনের চলাচল কম থাকায় কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে স্থানটি ব্যবহার করে থাকতে পারে। তবে ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কার মালিকানাধীন ছিল এবং জবাইয়ের পর মাংস কোথায় নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থল থেকে ১২টি ঘোড়ার মাথা উদ্ধার

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। ফলে জায়গাটি বেশ নির্জন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে ১২টি ঘোড়ার মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস নিয়ে গিয়ে দেহাবশেষ ফেলে রেখে গেছে কোনো চক্র।’

ঘোড়াগুলোর মাংস কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলো মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তে পুলিশ

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, এগুলোর মালিক কারা, কোথায় জবাই করা হয়েছে এবং মাংস কোনো চক্রের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এদিকে একই স্থানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ঘোড়ার দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!