ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

টঙ্গীতে হাজীর মাজার বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, পুনর্বাসনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

টঙ্গীতে হাজীর মাজার বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, পুনর্বাসনের দাবি

ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদ এবং পুনর্বাসনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বস্তিবাসীরা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর টঙ্গী উড়াল সড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বস্তিবাসীদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চলার পর প্রশাসনের আশ্বাসে বস্তিবাসীরা সড়ক থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

যেভাবে শুরু হয় বিক্ষোভ

বিক্ষোভকারীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে হাজীর মাজার বস্তি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি টঙ্গী বাজার থেকে শুরু হয়ে টঙ্গী স্টেশন রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে বিক্ষোভ মিছিলটি বিআরটি ফ্লাইওভারের টঙ্গী বাজার অংশে এসে অবস্থান নেয়। সেখানে বস্তিবাসীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন তারা।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা কর্মসূচির সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে টঙ্গীসহ আশপাশের এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

উচ্ছেদ নিয়ে বস্তিবাসীদের অভিযোগ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বস্তিবাসীদের অভিযোগ, কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের দায় সাধারণ বস্তিবাসীদের ওপর চাপিয়ে হাজীর মাজার বস্তি উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুরো বস্তির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বস্তিবাসীরা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করলেও উচ্ছেদের আগে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো—পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনোভাবেই তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। তারা বলেন, বস্তিতে বসবাসকারী সব মানুষ অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। কয়েকজনের অপরাধের কারণে নিরপরাধ ও সাধারণ পরিবারগুলোকে শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাদের দাবি, উচ্ছেদ করা পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে তাদের জন্য দ্রুত নিরাপদ আবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুনর্বাসনের বিষয়টি নিশ্চিত না করে যেন তাদের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা না হয়। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান।

পুলিশের বক্তব্য

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদুল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, পরে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয় এবং তাদের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

যানজটে দুর্ভোগ

সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকায় টঙ্গী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে কর্মসূচি চলায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনও আটকা পড়ে।

প্রশাসনের আশ্বাসের পর বস্তিবাসীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে অবরোধের সময় সৃষ্ট যানজট স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে।

হাজীর মাজার বস্তির উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বস্তিবাসীদের দাবি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!