রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে আনুমানিক ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদিত পদ্ধতিতে আমদানি না করা এসব বিদেশি সিগারেটের চালান জব্দের ফলে সরকারের প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদ ও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দার দুটি প্রিভেন্টিভ টিম অভিযান পরিচালনা করে।
বুধবার একযোগে রাজধানীর শ্যামলীর পিসি কালচার হাউজিং এবং মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লার দুটি আবাসিক ভবনে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট দুটি গোডাউন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে ভবনের মালিক ও দারোয়ানের সহযোগিতায় গোডাউনগুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। সেখানে বস্তাভর্তি অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেটের চালান পাওয়া যায়।
চার ব্র্যান্ডের বিপুল সিগারেট উদ্ধার
অভিযানে Patron Nano, Mond, Oris এবং Orbit ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সিগারেটগুলো বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশে আনা হয়নি। ফলে এসব পণ্যের ওপর প্রযোজ্য রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
জব্দকৃত সিগারেটের মোট পরিমাণ আনুমানিক ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা এবং এর বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।
দিনে গোডাউন বন্ধ, রাতে চলত মালামাল সরবরাহ
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ডিলারশিপের কথা বলে একই ব্যক্তি দুটি ভিন্ন স্থানে ভবন মালিকদের কাছ থেকে গোডাউন ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে গোডাউনগুলোতে কী ধরনের পণ্য সংরক্ষণ করা হতো, সে বিষয়ে ভবন মালিকদের বিস্তারিত জানানো হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
সাধারণত দিনের বেলা গোডাউন দুটি বন্ধ রাখা হতো। রাতের দিকে সেখানে বিভিন্ন চালান আনার পর সেগুলো পরবর্তী সময়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ বিদেশি সিগারেট সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, জব্দকৃত সিগারেটগুলো বৈধভাবে আমদানি করা না হওয়ায় এর বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আদায় হয়নি। অভিযান চালিয়ে এসব সিগারেট জব্দ করায় আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
রাজস্ব সুরক্ষার পাশাপাশি অবৈধভাবে আমদানি ও বাজারজাত করা তামাকজাত পণ্যের বিস্তার ঠেকাতেও এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস গুদামে জমা, ধ্বংসের প্রক্রিয়া
অভিযানে জব্দ করা সিগারেটগুলো আইন অনুযায়ী জব্দ করে নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে এসব অবৈধ সিগারেট ধ্বংস করা হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে।
অবৈধ সিগারেটের উৎস, মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অবৈধ তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা এবং অবৈধ তামাকজাত পণ্যের আমদানি, মজুত ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে সারাদেশে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজস্ব ফাঁকি রোধের পাশাপাশি বৈধ আমদানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা এবং অনুমোদনহীন বিদেশি সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণেও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

