ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ দাবি করেন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমানটিতে হামলার দৃশ্য এবং পরে এর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি।
তবে হুতিদের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্রের দাবি
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।’
ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য, মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করার পাশাপাশি যুদ্ধবিমানটি সেখানে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ভিডিওতে হামলা ও ধ্বংসাবশেষ
হুতিদের প্রকাশিত ভিডিওতে একটি যুদ্ধবিমানকে আকাশে উড়তে এবং সেটিকে লক্ষ্য করে হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওর পরবর্তী অংশে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি ধ্বংসাবশেষও দেখানো হয়।
হুতিরা এটিকে সৌদি আরবের এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ হিসেবে দাবি করেছে। তবে প্রকাশিত ভিডিওটির স্বাধীন উৎস, ধারণের স্থান বা এতে প্রদর্শিত ধ্বংসাবশেষটি সত্যিই সৌদি এফ-১৫-এর কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
ইয়েমেনে ৪৫০ হামলার অভিযোগ
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র একই বক্তব্যে সৌদি আরব ইয়েমেনে ৪৫০টি হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক তৎপরতার ধারাবাহিকতার মধ্যেই মারিবের আকাশসীমায় ওই যুদ্ধবিমানটি অভিযান পরিচালনা করছিল। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৪৫০ হামলার সংখ্যাটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এফ-১৫ সৌদি বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান
এফ-১৫ একটি মার্কিন নকশার বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের যুদ্ধবিমান তার সামরিক বহরে ব্যবহার করে আসছে। আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এ ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ফলে সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি সত্য হলে তা সামরিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় এর সামরিক প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
মারিব কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইয়েমেনের উত্তর-মধ্যাঞ্চলের মারিব প্রদেশ দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রদেশটির কৌশলগত অবস্থান এবং জ্বালানি সম্পদের কারণে ইয়েমেনের সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মারিবের নিয়ন্ত্রণ ও আশপাশের এলাকায় সামরিক তৎপরতা নিয়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী এবং তাদের বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও উত্তেজনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মারিবের আকাশসীমায় সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার হুতিদের দাবি নতুন করে ওই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
দাবির সত্যতা নিয়ে সতর্কতা
হুতিদের প্রকাশিত ভিডিওতে হামলা ও জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ দেখানো হলেও শুধু ভিডিওর ভিত্তিতে যুদ্ধবিমানটির পরিচয়, হামলার স্থান, সময় বা ধ্বংসের কারণ নিশ্চিত করা যায় না। এ কারণে ঘটনাটিকে আপাতত হুতিদের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে সৌদি আরবের সরকারি বক্তব্য, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বা যুদ্ধবিমানটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে দাবিটির সত্যতা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে ইয়েমেনকে ঘিরে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। নতুন করে কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তা ওই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

