সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জনকারী বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজ ও তাদের অভিভাবকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হাফেজদের অভিনন্দন জানান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার জন্য তাদের প্রশংসা করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য
গত আগস্টে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা। এতে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একাধিক হাফেজ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গৌরবজনক স্থান অর্জন করেন। তাদের এ অর্জন দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সন্তানরা নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
‘সাফল্য পুরো জাতির গৌরব’
বিজয়ী হাফেজদের সাফল্যকে পুরো জাতির গৌরব হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশি তরুণদের এ ধরনের আন্তর্জাতিক অর্জন দেশের মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজয়ী হাফেজদের অর্জন বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের প্রতীক। মেধাবী তরুণদের যথাযথ উৎসাহ, সহযোগিতা ও মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ পাবে।
তিনি আরও বলেন, মেধাবীদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় অবদান রাখতে পারবেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিচিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যার কথা তুলে ধরেন শিক্ষকরা
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের অভিভাবকদের পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ মাদ্রাসার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা ও হিফজ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো নিয়েও তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মেধাবীদের উৎসাহ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের তরুণদের সাফল্যকে উৎসাহ দেওয়ার গুরুত্বও উঠে আসে। কোরআন হিফজ ও তেলাওয়াতের মতো ক্ষেত্রে যারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের অর্জনকে যথাযথভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি পর্যায় থেকে মেধাবীদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও তরুণ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী হবে—এমন প্রত্যাশাও অনুষ্ঠানে ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিযোগিতা ও সংবর্ধনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রতিযোগিতা: ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা
স্থান: মক্কা, সৌদি আরব
সময়: ২০২৬ সালের আগস্ট
অংশগ্রহণ: বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগী
বাংলাদেশের অর্জন: একাধিক হাফেজ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গৌরবজনক স্থান অর্জন
সংবর্ধনা: ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে সচিবালয়ে
উপস্থিতি: বিজয়ী হাফেজ, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষকরা
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি হাফেজদের এ সাফল্যের পর তাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংবর্ধনা দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী মেধাবীদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

