চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমেও পরিবর্তিত ফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষণে পরিবর্তন ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর ফল
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার সারাদেশে ৪ লাখ ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।
ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পূর্বের ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। কেউ পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত গ্রেড, আবার অনেকে ফেল থেকে পাস করেছেন। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করায় পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বোর্ডে আবেদন সবচেয়ে বেশি
১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে মোট ৯৪ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।
পুনঃনিরীক্ষণের পর ঢাকা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯০৬ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ৩৩৭ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন।
ঢাকা বোর্ডে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের কারণে এই বোর্ডের ফল পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
ময়মনসিংহে ফেল থেকে পাস সবচেয়ে বেশি
ফেল থেকে পাস করার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষণের পর ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বোর্ডে নতুন করে ৭৭৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
অন্যদিকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষণের পর ৮৬৭ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। এ বোর্ডে নতুন করে ২৭৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডেও পরিবর্তন
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর এ বোর্ডে নতুন করে ২৯৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে ৪৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পুনঃনিরীক্ষণের মাধ্যমে ফল পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২৪ দিন পর প্রকাশ হলো পুনঃনিরীক্ষণের ফল
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয় ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। এবার প্রচলিত পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগও রাখা হয়েছিল।
আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর বৃহস্পতিবার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলো।
পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও পরিবর্তিত ফল জানানো হয়েছে।
কী কারণে ফল পরিবর্তন হয়?
খাতা পুনঃনিরীক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যায়নের সময় কোনো উত্তরপত্রে নম্বর যোগে ভুল, কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন না হওয়া, নম্বর যথাযথভাবে স্থানান্তর না হওয়া বা ফল প্রস্তুতের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে কি না—তা যাচাই করা।
এ কারণে পুনঃনিরীক্ষণের পর কোনো শিক্ষার্থীর নম্বর বা গ্রেড পরিবর্তিত হলে তার সামগ্রিক ফলাফলেও পরিবর্তন আসতে পারে। এ বছর বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তন এবং হাজারো শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
ফল পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের নতুন সুযোগ
পুনঃনিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়া এবং ফেল থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী শিক্ষাজীবনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা ফেল থেকে পাস করেছেন, তারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি ও পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবেন।
অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নিজেদের ফলাফল অনুযায়ী নতুন করে সুযোগ বিবেচনা করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলে হাজারো শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়া ৩ হাজার ৭৯ জন এবং ফেল থেকে পাস করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

