ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সব প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় চালু হবে মিড-ডে মিল, বাস্তবায়ন ২০২৬-৩১ মেয়াদে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

সব প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় চালু হবে মিড-ডে মিল, বাস্তবায়ন ২০২৬-৩১ মেয়াদে

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ইবতেদায়ি ও অন্যান্য মাদ্রাসায় পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল বা দুপুরকালীন খাবার চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ অর্থবছরের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও খাবারের আওতায় আনার উদ্যোগ

সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারিভাবে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মাদ্রাসা ও অবহেলিত এতিমখানার শিক্ষার্থীরা কেন একই ধরনের সুবিধা পাচ্ছে না।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও দুপুরকালীন খাবারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। এর আওতায় প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৬-২০৩১ মেয়াদে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৬-২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। শিক্ষা খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বিশেষ প্রকল্পও প্রণয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (এসইডিপি)-এর আওতায় ‘মাদ্রাসা শিক্ষা উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচি’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প প্রণয়নের কথা জানিয়েছেন তিনি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকেও পর্যায়ক্রমে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

শতভাগ ইবতেদায়ি মাদ্রাসা অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য

সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রত্যন্ত ও অবহেলিত ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তান। ফলে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৬-২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের আওতায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে শতভাগ কভার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিও প্রয়োজন। এ কারণে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা খাতে ‘স্বাস্থ্য ও খাদ্য’ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মিড-ডে মিল চালু হলে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা অন্তত দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খাবার পাওয়ার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।

ঝরে পড়া কমানোর প্রত্যাশা

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকলে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় নিয়মিত উপস্থিতির প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুধাজনিত কারণে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগের ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমে আরও বেশি সময় ধরে যুক্ত থাকার সুযোগ পাবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমানো, উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্ব

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে সাধারণ মাদ্রাসার পাশাপাশি অবহেলিত এতিমখানার শিক্ষার্থীদেরও দুপুরের খাবারের সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে থাকা শিশুদের একটি বড় অংশই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে বেড়ে ওঠে।

তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাদ্য সহায়তা সম্প্রসারণ করা হলে তাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কর্মসূচির আওতা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও খাবারের ধরনসহ বিস্তারিত বিষয় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হবে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একসঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি চালুর পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিড-ডে মিল কর্মসূচির সফলতার জন্য শুধু খাবার সরবরাহ নয়, খাবারের মান, পুষ্টিমান, নিরাপদ পরিবেশন, নিয়মিত সরবরাহ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

সরকারের এ উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদের জন্যও খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তার পরিধি বাড়বে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কমানো এবং বিদ্যালয়মুখী করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!