একই শহর, একই শিক্ষা ব্যবস্থা, একই প্রশ্নপত্র—তারপরও সব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন কি সত্যিই একই রকম? কেউ বেড়ে ওঠে নিরাপদ ও সচ্ছল পারিবারিক পরিবেশে, পায় ভালো স্কুল, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, ব্যক্তিগত গাইডলাইন ও মানসিক সমর্থন। আবার কারও শৈশব কাটে দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট কিংবা অনিশ্চয়তার মধ্যে। ফলে শিক্ষার্থীর মেধা, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনা থাকলেও সুযোগের বৈষম্য অনেক সময় তার ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে।
শিক্ষা গবেষক ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ ও শিক্ষাজীবনের সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত মেধা বা পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে না। পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান, দক্ষ শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ, মানসিক নিরাপত্তা এবং অতিরিক্ত শেখার সুযোগ—সবকিছু মিলেই একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পথ তৈরি হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিক্ষার মান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগে এসব বৈষম্যকে সবসময় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে একই মানদণ্ডে শিক্ষার্থীদের বিচার করা হলেও তাদের শুরুর অবস্থান থাকে ভিন্ন। এরই প্রভাব দেখা যায় পরীক্ষার ফলাফলেও।
সুবর্ণার গল্প—জিপিএ ৪.২৩-এর আড়ালে যে দীর্ঘ সংগ্রাম
সুবর্ণা আক্তারের বয়স তখন মাত্র আট বছর। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তার ঠিকানা হয় সরকারি শিশু পরিবারে। যে বয়সে একটি শিশুর মা-বাবার আদর-স্নেহ, নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ ও স্বাভাবিক শৈশব পাওয়ার কথা, সেই বয়স থেকেই সুবর্ণাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে।
বছরের পর বছর সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠার পর এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সে। ফলাফলে পেয়েছে জিপিএ ৪ দশমিক ২৩।
একটি সংখ্যার বিচারে এটি হয়তো কারও কাছে প্রত্যাশিত ফল নয়। কিন্তু এই ফলের পেছনে থাকা গল্পটি ভিন্ন। পরিবার থেকে দূরে থাকা, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সীমিত সুযোগ এবং নানা সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সুবর্ণা।
তার ভাষায়, বাইরে থেকে যারা শিশু পরিবারে থাকা শিশুদের দেখে, তারা অনেক সময় তাদের ছোট করে কথা বলে। তারা কেন শিশু পরিবারে থাকে, কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের বেড়ে উঠতে হয়—তা জানার বা বোঝার চেষ্টা করা হয় না।
এসএসসির ফল প্রকাশের পরও সেই বাস্তবতার পরিবর্তন হয়নি। জিপিএ-৫ না পাওয়ায় তাকে শুনতে হয়েছে নানা কটু কথা।
অথচ একটি ফলাফল কি একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবনসংগ্রামকে তুলে ধরতে পারে?
‘সবাই আশা করেছিল আমরা এ প্লাস পাব’
সুবর্ণার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা ফলাফল নিয়ে তাকে দোষারোপ করেননি। বরং নিজের চেষ্টায় সে যে ফল করেছে, সেটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন।
তবে শিশু পরিবারে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সমাজের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সবাই আশা করেছিল, তারা ভালো ফল করবে, জিপিএ-৫ পাবে। কিন্তু যখন কেউ এ প্লাস পায়নি, তখন হতাশা তৈরি হয়।
এখানেই সামনে আসে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—একজন শিক্ষার্থী কতটা সুযোগ পেয়েছে, কী ধরনের পরিবেশে পড়াশোনা করেছে এবং কী ধরনের প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে এগোতে হয়েছে, তা বিবেচনা না করে শুধু পরীক্ষার ফল দিয়ে কি তার মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব?
অন্যদিকে ইনায়ার গল্প সম্পূর্ণ ভিন্ন
একই শহরে, একই সময়ে বেড়ে ওঠা আরেক শিক্ষার্থী ইনায়া খানের শিক্ষাজীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায়।
রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ইনায়া পেয়েছে গোল্ডেন এ প্লাস।
পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ, অভিভাবকের মানসিক সমর্থন এবং বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত সুযোগ—সবই পেয়েছে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছে।
ইনায়ার ভাষায়, এসএসসি প্রস্তুতির দীর্ঘ সময়ে বাবা-মায়ের সমর্থন ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি। পড়াশোনা ও অন্যান্য কার্যক্রম একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেক সময় চাপ অনুভব করলেও পরিবারের সহযোগিতা তাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করেছে।
এখানেই সুবর্ণা ও ইনায়ার গল্প দুটি একটি বড় বাস্তবতাকে সামনে আনে। দুজনই একই দেশের শিক্ষার্থী, দুজনই একই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার হলে বসার আগের জীবন তাদের এক ছিল না।
অর্থনৈতিক সামর্থ্য কতটা সুযোগ তৈরি করে?
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—দুইভাবেই প্রভাব ফেলে।
সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা সাধারণত মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ, প্রয়োজনীয় বই-খাতা ও ডিজিটাল ডিভাইস, ব্যক্তিগত গাইডলাইন, কোচিং বা অতিরিক্ত সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুষ্টির মতো সুবিধা তুলনামূলক সহজে পেয়ে থাকে।
অন্যদিকে নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনেক সময় পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করতে হয়। কারও পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ থাকে না, কারও নিরিবিলি পড়ার পরিবেশ নেই, আবার কেউ আর্থিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত শিক্ষা সহায়তা নিতে পারে না।
ফলে মেধা ও পরিশ্রম থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে অন্যদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি সমান থাকে না।
ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি ফলাফলে প্রভাব ফেলে?
শিক্ষার্থীর ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষ শিক্ষক, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি, প্রযুক্তিগত সুবিধা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নিয়মিত একাডেমিক সহায়তা শিক্ষার্থীর শেখার সুযোগ বাড়ায়।
নামী-দামি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসএসসিতে ভালো ফলের হার বেশি দেখা গেলেও এর পেছনে শুধু শিক্ষার্থীর মেধাকে কারণ হিসেবে দেখলে চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে উন্নত শিক্ষা পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং পরিবারের সহযোগিতা পেয়েছে।
অন্যদিকে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা অনেক সময় একই পরীক্ষায় অংশ নিলেও প্রস্তুতির সুযোগে পিছিয়ে থাকে।
‘জিপিএ দিয়ে পুরো মেধা বিচার করা যায় না’
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সময়ে অর্জিত একাডেমিক দক্ষতার একটি চিত্র দিতে পারে; কিন্তু তার সামগ্রিক মেধা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ, অধ্যবসায় বা প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা পুরোপুরি প্রকাশ করে না।
সুবর্ণার মতো একজন শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার মধ্যেও যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেটি মূল্যায়নের সময় তার জীবনসংগ্রামও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
কারণ, একজন শিক্ষার্থীর জন্য যেখানে পড়াশোনার প্রধান কাজ শুধু বই পড়া, অন্যজনের জন্য সেখানে প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ সামলে বই হাতে নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
শিক্ষায় বৈষম্য কমাতে বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, শিক্ষায় ধনী-গরিবের বৈষম্য কমাতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তার মতে, শিক্ষাকে শুধু স্কুলে ভর্তি করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; শিক্ষার মান, অবকাঠামো এবং শিক্ষকতার মানও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক করা গেলে শিক্ষার মূল জায়গায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কোচিংয়ের প্রয়োজন কমবে এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত মেধাবী ও আগ্রহী ব্যক্তিদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে।
তার মতে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার সামগ্রিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক
শিক্ষার বৈষম্য কমাতে শুধু বিনামূল্যে শিক্ষা যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক।
একজন ভালো শিক্ষক শিক্ষার্থীর দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারেন, শেখার ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, যে শিক্ষার্থী বাড়িতে পর্যাপ্ত একাডেমিক সহায়তা পায় না, তার জন্য শ্রেণিকক্ষই হতে পারে শেখার প্রধান জায়গা।
তাই ধনী পরিবারের শিক্ষার্থী যেমন বাইরে থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পাচ্ছে, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী যেন বিদ্যালয়ের ভেতরেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়—শিক্ষাব্যবস্থাকে সেদিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কারই কি সমাধান?
এসএসসি ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
কৃতিত্বের স্বীকৃতি অবশ্যই শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শুধু সর্বোচ্চ ফল করা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করলেই কি শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য কমবে?
যে শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং যে শিক্ষার্থী চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও জিপিএ ৪ বা তার কাছাকাছি ফল করেছে—দুজনের অর্জনকে কি একই সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত?
শিক্ষাবিদদের বক্তব্য, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সহায়তা, বৃত্তি, মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি, মানসিক সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষায় সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
‘একই প্রশ্নপত্র, কিন্তু জীবনের প্রশ্নপত্র এক নয়’
সুবর্ণা ও ইনায়ার গল্প দুটি মূলত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। পরীক্ষার হলে দুজনের হাতে একই প্রশ্নপত্র ছিল, উত্তর দেওয়ার জন্য একই সময় ছিল এবং মূল্যায়নের মানদণ্ডও ছিল একই।
কিন্তু সেই পরীক্ষার আগে তাদের জীবনের প্রস্তুতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
একজন পেয়েছে নিরাপদ পরিবার, আর্থিক নিশ্চয়তা, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও মানসিক সমর্থন। অন্যজনকে লড়তে হয়েছে পারিবারিক বিচ্ছেদ, অনিশ্চয়তা, সীমিত সুযোগ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে।
তাই শিক্ষার্থীর মেধা ও সম্ভাবনাকে শুধু ফলাফলের সংখ্যায় আটকে না রেখে তার সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
শিক্ষার বৈষম্য কমাতে কী করা জরুরি?
শিক্ষাবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—
অন্তত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মানসম্মত শিক্ষা বিনামূল্যে ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা;
প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা;
প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা;
দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও বিশেষ সহায়তা বাড়ানো;
বিদ্যালয়ভিত্তিক অতিরিক্ত শিক্ষা সহায়তা জোরদার করা;
কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে শ্রেণিকেন্দ্রিক শিক্ষাকে কার্যকর করা;
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া;
শুধু জিপিএ নয়, শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অধ্যবসায় ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতাকেও মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
একজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা সার্টিফিকেট তার ফলাফল জানায়, কিন্তু তার সংগ্রামের গল্প জানায় না। সেখানে লেখা থাকে না—কে কত রাত না ঘুমিয়ে পড়েছে, কার পাশে পরিবার ছিল, কে আর্থিক সংকটে বই কিনতে পারেনি, কে নিরাপদ পরিবেশ পেয়েছে আর কে প্রতিদিন নিজের জীবনের সঙ্গেই লড়াই করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে।
তাই শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃত সমতা আনতে হলে শুধু সবার হাতে একই প্রশ্নপত্র তুলে দিলেই হবে না; সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ, পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র সবার জন্য এক হলেও জীবনের প্রশ্নপত্র সবার জন্য এক নয়।

