নওগাঁর সাপাহারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার বংশবিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা যুবদল।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
কর্মসূচির শুরুতে দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বের হয়ে সাপাহার সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে ফগার মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ি, দোকানপাট ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আক্কাস আলীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান কল্লোল ও মিজানুর রহমান শাহ চৌধুরী।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান স্বপন, সদস্য মাহফুজুল হক চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ শাহ চৌধুরী ও হাসনাত রেজা, সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেনসহ বিএনপি, যুবদল এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জমে থাকা পানি অপসারণে গুরুত্ব
কর্মসূচিতে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিতভাবে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
তারা বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ড্রাম, টায়ার কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে এসব স্থান পরিদর্শন করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।
জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় কর্মসূচি থেকে।
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আরও সচেতন করা সম্ভব হবে।

