নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মাদকদ্রব্যগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে পলাতক আসামি হিসেবে শনাক্ত করেছে বিজিবি।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে সাপাহার সীমান্তের কৃষ্ণসুধা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩ হাজার পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং এক বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৪ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধীন হাপানিয়া বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
হাপানিয়া বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২৩৬/এমপি থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কৃষ্ণসুধা নামক এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধির ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে মাদকদ্রব্যের মালিকানা দাবি করার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মদ উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা হয়েছে ৩ হাজার ট্যাপেন্টাডল
বিজিবির অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং এক বোতল ভারতীয় মদ।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৪ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা।
সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পলাতক ২
বিজিবি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের চোরাচালানের সঙ্গে স্থানীয় দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সাপাহার উপজেলার কৃষ্ণসুধা গ্রামের মোঃ সাদেকুল ইসলাম (২৮), পিতা মোঃ নাইমুল ইসলাম এবং একই গ্রামের মোঃ হযরত আলী (৩৫), পিতা মোঃ মতিরুল।
তবে অভিযানের সময় তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাপাহার থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া
অভিযানে জব্দ করা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ভারতীয় মদ আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নওগাঁর সাপাহার থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তে নজরদারি জোরদার
সাপাহারসহ নওগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অবৈধ পণ্য প্রবেশের আশঙ্কা থাকায় বিজিবি নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল ও চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক প্রবেশের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

